উড়িয়ে নিয়ে গেছে ঘর
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কালবৈশাখীর তান্ডব, মাটিতে শুয়ে প্রাণে বাচলেন ৬ জন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আচমকা কালবৈশাখীর তান্ডবে ৫টি বসত ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এর মধ্যে দুটি বসত ঘর উড়িয়ে অন্য এলাকায় নিয়ে গেছে কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া। এছাড়া এই উপজেলার চম্পাপুর, টিয়াখালি, ধুলসার ইউপি সহ বিভিন্ন স্থানে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি। মাটি থেকে উপরে পড়েছে ছোট বড় অসংখ্য গাছ-পালা। একাধিক জায়গায় ছিঁড়ে গেছে বৈদ্যুতিক তার সংযোগ।
এদিকে ঝড়ের সময় মাটিতে শুয়ে পড়ে প্রাণ রক্ষা হয়েছে ২ শিশু সহ একই পরিবারের অন্তত ৬ জনের। মঙ্গলবার দুপুর ২ টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউপির সলিমপুর ও নবাবগঞ্জ গ্রামে কালবৈশাখীর কবলে পড়ে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় ৫ টি পরিবার।
যাদের শুধু ভিটে ছাড়া অবশিষ্ট এক টুকরো শুকনো কাপড়ও রেখে যায়নি বৈশাখী ঝড়। বর্তমানে তারা স্থানীয় প্রতিবেশির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে হঠাৎ ভাড়ি বৃষ্টির সঙ্গে ঝড় হওয়ার তান্ডবে নবাবগঞ্জ গ্রামের আবদুল মান্নান, মরিয়ম বেগম ও মাধবের বসত বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। একই সময়ে সলিমপুরে নির্মল ও বিমল বিশ্বাস এই দুই সহোদর ভাইয়ের বসতবাড়ি উড়িয়ে নিয়ে যায় কালবৈশাখী।
কথা হলে কান্না জড়িত কন্ঠে সলিমপুরের বাসিন্দা নির্মল বিশ্বাস বলেন, প্রচন্ড গতির কালবৈশাখী তান্ডবে তার টিনশেডের বসতঘর উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এসময় তারা ঘরের মধ্যে দুপুরের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
কিন্তু ঘর উড়িয়ে নিয়ে গেলে তারা প্রাণ রক্ষায় মাটিতে শুয়ে পড়েন। এতে পরিবারের ছয় সদস্যে প্রাণে বাচলেও আহত হয়েছে অনেকেই। তবে ঘরের একটি কাপড়ও অক্ষত রেখে যায়নি এবছরের এই কালবৈশাখী ঝড়।
ক্ষতিগ্রস্ত গৃহবধূ বিজয়লক্ষী বলেন, হঠাৎ ঝড়ের সময় ঘর উড়িয়ে নিয়ে গেলে ছেলেকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে মাটিতে শুয়ে পড়ে বেঁচে আছি। কিন্তু তার ঘরবাড়ি কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই। পালিত পশুপাখিও উড়িয়ে নিয়ে গেছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
বর্তমানে এই পরিবারগুলো বৃষ্টিতে ভিজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ঘরের আসবাবপত্র গোছালেও তারা সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া এসব পরিবারের নারী সদস্য ও শিশুরা আশ্রয়ের জন্য প্রতিবেশী স্থানীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম বলেন, আমরা এখনো পর্যন্ত ৫টি ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি, ছাড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের তালিকা এখনো নিরূপণ করা যায়নি। অর্ধ শতাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এখনো পর্যন্ত জানা গেছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের তালিকা প্রস্তুত করে জরুরী ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।















