বাজেটের নির্দেশনা দিতে এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ৮ ঘণ্টার বৈঠক

দীর্ঘ ২০ বছর পর বড় ম্যান্ডেট নিয়ে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেছে। আর ক্ষমতা গ্রহণের পর অর্থাৎ আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার কথা রয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাজেট পেশ নতুন সরকারের জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জের। তাই আগামীর বাজেট যাতে জনমনে বিরূপ কোনো প্রতিক্রিয়া তৈরি না করে, সেদিকে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নির্বাচনি ইশতেহার পূরণে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের বেনিফিটের বিষয়টিও আগামী বাজেটে যাতে থাকে, সেই নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের নিয়ে বাজেট-সংক্রান্ত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বৈঠক শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায়। বৈঠক চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের নেতৃত্বে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কনীতির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনজীবনে যাতে ইমপেক্ট না পড়ে, এমন প্রতিটি প্রস্তাব দেখেছেন এবং এনবিআরকে নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকে শিল্প-উদ্যোক্তাদের বেনিফিট বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, ‘বাজেটে মেইনলি ফোকাস ছিল শিল্প উদ্যোক্তাদের বেনিফিট দেওয়া এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো। আর বাজেটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে বা জনজীবনে যাতে ইমপেক্ট না পড়ে। এ-সংক্রান্ত প্রোপোজাল স্যার এক এক করে দেখেছেন বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

বৈঠক সূত্রে আরও জানা যায়, এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রপ্তানি বাড়াতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী অর্থবছরের বাজেটে লং টার্ম পলিসি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে খাতভিত্তিক বন্ড ফ্যাসিলিটি বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন। বিনিয়োগ বাড়াতে একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ধনীদের সম্পদ কর বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি দিলেও সাধারণ মানুষের কষ্ট হয় এমন করারোপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছেন। আর রপ্তানি খাতকে প্রসারিত করতে সেক্টরভিত্তিক বন্ড ফ্যাসিলিটি বাড়ানোর বিষয়কে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। এছাড়া করছাড়ের বিষয়ে যাতে কত সময়ের মধ্যে রিটার্ন আসবে, সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে করছাড় দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া বেভারেজ পণ্যে নতুন করে কর না বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।