কমিউনিটি ক্লিনিক সচল থাকবে
১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার

দেশের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস.এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করে চিকিৎসাব্যবস্থাকে ‘ট্রিটমেন্ট সেন্ট্রিক’ ধারা থেকে ‘প্রিভেনশন সেন্ট্রিক’ বা প্রতিরোধভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে চায় সরকার।
এ জন্য আগামী তিন থেকে চার বছরে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
একইসঙ্গে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মা ও নবজাতকের সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান।
পর্তুগালের লিসবন সফর শেষে দেশে ফিরে রোববার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান জিয়াউদ্দিন হায়দার।
প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ সহকারী জানান, এই বিপুল সংখ্যক মিডওয়াইফ নিয়োগের আগে মাঠপর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে তাদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে সরকার এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি শক্তিশালী ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলা হবে। এই নতুন নেটওয়ার্কের আওতায় বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এবং সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন।
দেশের কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী।
তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো যেভাবে আছে সেভাবেই সচল থাকবে। তবে সেবার পরিধি আরও বাড়াতে এবং মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছে দিতেই এই নতুন প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক কাজ করবে।’
তিনি আরও বলেন, পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইফসের ৩৪তম আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ১২২টি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেন তিনি।
পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতিতে টিকা সংকট হয়েছে
পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির কারণে দেশের টিকাদান কর্মসূচি এবং পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সংগ্রহে সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ের পুরাতন ১ নম্বর ভবনের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘সংকটের কারণ সরকারের কাছে স্পষ্ট হওয়ায় এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই।’
তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতির কারণে ২০২৪ সালের টিকাদান কর্মসূচির একটি পূর্ণাঙ্গ রাউন্ড বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সময়মতো ভ্যাকসিন ও পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সংগ্রহ না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং যথাসময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, ‘অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) পদ্ধতি বাদ দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিক অর্থপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। দ্রুত অনুমোদনের আশায় ওপি পদ্ধতি বাতিল করা হলেও বাস্তবে অনেক ডিপিপির প্রস্তুতি, কারিগরি অনুমোদন ও প্রকল্প কার্যালয় গঠন দীর্ঘ সময় ধরে সম্পন্ন হয়নি। ফলে পুরোনো অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেলেও নতুন অর্থায়ন চালু হয়নি। এর প্রভাব পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহে পড়েছে, যার ভোগান্তি এখনো দেশের মানুষকে বহন করতে হচ্ছে।’
সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী বর্তমানে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সদর দপ্তরে যাচ্ছেন। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা করা হবে, যাতে দ্রুত ঘাটতি পূরণ করা যায়।’






























