রংপুরের পীরগঞ্জে খাদ্য গুদামগুলোতে বস্তা সংকটের কারণে কৃষকদের ধান ক্রয় বন্ধ

রংপুরের পীরগঞ্জ সদর ও ভেন্ডাবাড়ী খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে ৩৬ টাকা কেজি দরে ইরি-বোরো মৌসুমে সাধারণ কৃষকদের নিকট ধান ক্রয়ের নির্দেশনা থাকলেও গত ১০/১২ দিন ধরে খাদ্য গুদামগুলোতে খালি বস্তা সরবরাহ না থাকায় ধান ক্রয় বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, পীরগঞ্জ সদর ও ভেন্ডাবাড়ি খাদ্য গুদামে মোট সাড়ে ১২’শ কৃষকের নিকট প্রতি জন ২ টন করে ২ হাজার ৪’শ ৯৭ মেঃটন ধান ক্রয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ধান ক্রয় চলবে ৩ আগষ্ট পর্যন্ত। এ যাবত সাধারণ কৃষকদের নিকট ৪০ শতাংশ ধান ক্রয় সম্ভব হয়েছে।

এদিকে ইরি-বোরোর ভরা মৌসুমে সরকারী খাদ্যগুদামে ধান দিতে ব্যর্থ হয়ে সাধারণ কৃষকরা কম বাজার মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। একেই তো বাজার মূল্য কম, তার উপর প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) ২ হতে আড়াই কেজি ধান বেশি দিতে হয়।

ধান আবাদের উপর নির্ভরশীল অনেক কৃষক জানান, পুরো মৌসুমে সার, কীটনাশকের দোকানসহ অন্যান্য দোকানে বাকী হয়েছে। দোকানীরা হালখাতার চিঠি দেয়ায় বাকী পরিশোধে বাধ্য হয়ে আগাম ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

খাদ্যগুদামে ধান দিতে আসা ঝাড়ামবাড়ী গ্রামের রায়হান মিয়া, পাকুড়িয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম ও দানিসনগর গ্রামের রোকনুজ্জামান আক্ষেপ করে বলেন, আমরা সরকারী বিধি অনুযায়ী অনলাইনে নিবন্ধিত কৃষক। আমরা একাধিক দিন খাদ্যগুদামে ধান দিতে গিয়ে ফেরৎ আনতে বাধ্য হয়েছি। খাদ্যগুদাম কর্মকর্তারাও নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না- কখন, কোনদিন কৃষকদের ধান নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে ভেন্ডাবাড়ী খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসি, এলএসডি) হাসান মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন, আপাতত কৃষকদের নিকট ধান ক্রয় বন্ধ আছে। কারণ হিসেবে জানান, সরকারীভাবে খালি বস্তা সরবরাহ নেই।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অমূল্য কুমার জানান, খালি বস্তা সরবরাহ না থাকায় কৃষকদের নিকট ধান ক্রয় সম্ভব হচ্ছে না। বস্তা বরাদ্দ পেলে ধান ক্রয় সচল হবে।