১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৮ পিস
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৮ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা ইয়াবার চালান ফেলে জঙ্গলে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ জারুলিয়াছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা প্রধানঝিরিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত পিলার ৪৬/১-এস থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবির-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে একদল চোরাকারবারি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির আভিযানিক দল তাদের ধাওয়া করে। এ সময় চোরাকারবারিরা ইয়াবাভর্তি কার্টন ফেলে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে ১৬টি কার্টনে থাকা ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৮ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪ পিস হলুদ রঙের এবং ১ হাজার ৬০৪ পিস সবুজ রঙের ইয়াবা রয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার সিজার মূল্য ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ টাকা।
সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবির-এর নেতৃত্ব ও কার্যকর দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, মানবপাচার ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ দমনে একের পর এক সফল অভিযান পরিচালনা করে আসছে ১১ বিজিবি। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারকারীদের তৎপরতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে।
এ বিষয়ে অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।














