সাজেকে গাড়ির ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, এলাকাবাসীরা বিক্ষোভ

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন খ্যাত সাজেকে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা সুমন্তি চাকমা(৩০) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু ঘটনায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায় সাজেকে প্রথম আলো, একাত্তর টিভি, সমকাল পত্রিকা পোড়ালো এবং সাজেকে বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় অন্ত:সত্তা শিক্ষিকার মৃত্যুর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক এলাকাবাসীরা বিক্ষোভ করেছে। তবে সাজেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সুমতি চাকমার পরিবারের পাশে দাড়িয়েছে বিজিবি জোন।
সাজেকে বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় সিএনজিতে থাকা অন্ত;সত্ত্বা স্কুল শিক্ষিকা সুমন্তি চাকমার মৃত্যুর ঘটনায় বিজিবিকে দায়মুক্তি দিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায় প্রথম আলো, একাত্তর টিভি, সমকাল পত্রিকা পায়ে মাড়িয়ে ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাজেক এলাকাবাসী। গত সোমবার(২০শে জুলাই ২০২৬) বিকেলে সাজেকের উজোবাজারে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।
বাবুধন চাকমা অভিযোগ করে বলেন, বিজিরি গাড়ির ধাক্কায় সুমন্তি চাকমার মৃত্যুর ঘটনায় বিজিবিকে দায়মুক্ত রাখার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রথম আলো, একাত্তর টিভি, সমকাল প্রত্রিকাসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আজকের এই ্রপ্রতিবাদ শুধু প্রথম আলো পত্রিকার জন্য নয়। এটা ইত্তেফাক, একাত্তর, যুগান্তর, আজাদী, পার্বত্য নিউজসহ যেসব মিডিয়ায় ঘটনাটি নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে আমরা তার নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। আমরা এ ধরনের সাংবাদিকতা চাই না। আমরা চাই মিডিয়ায় যাতে সঠিক ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রকাশ হয়। তিনি মিডিয়ায় প্রকাশিত উক্ত মিথ্যা সংবাদ প্রত্যাখ্যান করেন।
নতুন জয় চাকমা বলেন, বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় অন্ত;সত্ত্বা স্কুল শিক্ষিকা সুমন্তি চাকমার মৃত্যুর ঘটনায় বিজিবির সম্পৃক্ততা আড়াল করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায় আমরা এখানে প্রথম আলো, একাত্তর টিভি, সমকাল পত্রিকায় আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অন্যান্য মিডিয়াগুলোর প্রতি নিন্দা-ধিক্কার জানাচ্ছি। তিনি সুমন্তি চাকমার মৃত্যুর ঘটনায় যেসব দাবি জানানো হয়েছে সেগুলো দ্রুুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এদিকে সাজেকের মাচলঙ এলাকার ১৪কিলো এলাকায় বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় ‘ডাব আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর সহকারী শিক্ষিকা সুমন্তি চাকমা(৩০)-এর মৃত্যুর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। গত শনিবার(১৮ই জুলাই ২০২৬) বিকেল ৪টার সময় সাজেকের উজোবাজাারে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তাৎক্ষণিক আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে উক্ত ঘটনাকে কাঠামোগত হত্যা উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানানো হয়েছে। সমাবেশে বিশাখা চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বাবুধন চাকমা ও বিজয় কান্তি চাকমা।
বক্তারা বলেন, আজকে বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনা সাধারণ কোন দুর্ঘটনা নয়। এটা পরিকল্পিতভাবে কাঠামোগত হত্যাকান্ড। এ ঘটনার সম্পুর্ণ দায়ভার বিজিবিকে বহন করতে হবে। কারণ তাদের বেপরোয়া গতির গাড়ি ধাক্কায় এই প্রাণহাণির ঘটনাটি ঘটেছে। তারা অভিযোগ করে আরো বলেন, সাজেকে পাহাড়িদের ওপর একদিকে অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে, অপরদিকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যাকান্ড সংঘটিত করা হচ্ছে। তাই সাজেকবাসীদের আর প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ছাড়া কোন উপায় নেই।
বক্তারা সাজেক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পর থেকে সড়কে দুর্ঘটনার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। সমাবেশ থেকে বক্তারা তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো:- নিহতের পরিবারকে ১৫লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এছাড়া আহত ব্যক্তিদের পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা দিতে হবে এবং তারা যদি পঙ্গুত্ব বরণ করে সেক্ষেত্রেও খরচ বহন করতে হবে। সাজেক পর্যটন রোডে সামরিক, আধা সামরিক বাহিনীর গাড়িসহ পর্যটকবাহী সমস্ত যানবাহন বেপরোয়াভাবে চালানো রোধ করতে হবে। সাজেক পর্যটন রোডে সড়ক দূর্ঘটনা এড়াতে সড়কে স্পিড বেকার তৈরি করতে হবে। উত্থাপিত দাবিগুলো পূরণ করা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা।
অপরদিকে, আজ বিকেল ৪টা সময়ে বাঘাইছড়ি ২৭বিজিবির জোন কমান্ডার লে. কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ঘটনাটি বিষয়ে আলোচনা করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ডেকে পাঠান। এতে সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, ৭, ৮, ৯নং ওয়াডের মেম্বার রিপিকা চাকমা, ৭নং ওয়াডের মেম্বার বনবিহারী চাকমা ও ডাব আদামের কারবারী ভূজন কান্তি চাকমা সেখানে গেছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে কি আলোচনা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। তারা ফিরলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে।
অপরদিকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন স্থানীয় স্কুল শিক্ষিকা সুমতি চাকমা। গত শনিবার সাজেক-মাচলং সড়কে বিজিবির একটি ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই আকস্মিক ও বেদনাদায়ক ঘটনায় নিভে গেছে একটি পরিবারের আলো, আর মাতৃহীন হয়ে পড়েছে আট বছর বয়সী এক অবুঝ শিশু। তবে এই চরম শোকের মুহূর্তে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)।
ঘটনার পর গত সোমবার(২০শে জুলাই) নিহত শিক্ষিকা সুমতি চাকমার স্বামী ও তার ৮বছর বয়সী একমাত্র কন্যা সন্তান প্রাপ্তি চাকমাকে ডেকে আনেন বিজিবির জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। সাজেক জোনের কার্যালয়ে অবুঝ শিশু প্রাপ্তিকে দেখা মাত্রই জোন কমান্ডার পরম মমতায় তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং মাথায় হাত রেখে সান্তনা দেন। এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় সেখানে, যেখানে বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তা নিজেই এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের অভিভাবকের ভূমিকা নেন।
জোন কমান্ডার লে: কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ পরিবারটিকে আশ্বষÍ করে বলেন, “একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে মায়ের কোল, কিন্তু আমরা এই পরিবারটিকে একা হতে দেব না।” তিনি ভবিষ্যতেও বিজিবি এই পরিবারের পাশে থাকবে এবং শিশু প্রাপ্তির শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে বলে দৃঢ় আশ্বাস ব্যক্ত করেন। এই সান্ত্বনা ও পাশে থাকার আশ্বাসের সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান, সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, ইউপি সদস্য বনবিহারী চাকমাসহ নিহত শিক্ষিকার নিকটাত্মীয় ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিজিবির এই মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, “দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, তবে বিজিবি যেভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং শিশুটির ভবিষ্যৎ দেখভালের আশ্বাস দিয়েছে, তা পাহাড়ে সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
পাহাড়ে সীমান্ত রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর যেকোনো বিপদে বিজিবির এমন মানবিক অংশগ্রহণ সর্বদাই প্রশংসিত। সুমতি চাকমার অকাল প্রয়াণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা হয়তো কখনো পূরণ হবার নয়, তবে বিজিবির এই মমতাময়ী ও আশ্বাসের হাত শিশু প্রাপ্তির আগামী দিনের পথচলাকে কিছুটা হলেও মসৃণ করবে এবং তাকে নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জোগাবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে বিজিবির ডাম্পার গাড়ির ধাক্কায় সুমন্তি চাকমা(৩০) নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক গর্ভবতী শিক্ষিকা নিহত হয়। ভুক্তভোগী সুমন্তি চাকমার স্বামী স্বপন চাকমা(৩২), বাড়ি সাজেকের ডাব আদাম গ্রামে। তিনি ডাব আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক হিসেবে কমরত ছিলেন বলে জানা গেছে। গত ১৮ই জুলাই ২০২৬, শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সাজেক ইউনিয়নের মাচালং ১৪মাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
আরো জানা যায়, গত শনিবার(১৮ই জুলাই) সকাল ১০টার সময় সাজেক ডাব আদামের বাসিন্দা স্বপন চাকমার সহধর্মিণী ও ‘ডাব আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়এর সহকারী শিক্ষিকা অন্;সত্তা সুমন্তিত চাকমা(৩০) সন্তান প্রসবের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর উদ্দেশ্যে সিএনজি(অটোরিকশা) যোগে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। যাবার পথে মাচলঙ ১৪কিলো এলাকায় পৌঁছলে বিজিবির একটি গাড়ি পিছন দিক থেকে অতর্কিত সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। এতে শিক্ষিকা সুমন্তি চাকমা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর আধুনিক হাসপালে নেয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া উক্ত ঘটনায় একই গ্রামের বাসিন্দা অমর কান্তি চাকমার সহধর্মীনি করুনামুখী চাকমা(৫০), সিএনজি(অটোরিকশা) চালক হফেন ত্রিপুরাও(৩৭) গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমন্তি চাকমা তাঁর গ্রামের স্থানীয় সিএনজি চালক হরেন্দ্র ত্রিপুরার সঙ্গে সন্তান প্রসবের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নন্দারাম ও এগোজ্যাছড়ি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি বিজিবির ডাম্পার গাড়ি তাঁদের বহনকারী সিএনজিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিটি দুর্ঘটনার শিকার হলে ঘটনাস্থলেই সুমন্তি চাকমার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সিএনজি চালক হরেন্দ্র ত্রিপুরাও গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা সুমন্তি চাকমা(৩০) নামে এক অন্ত:সত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার(১৮ই জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাজেকের চাম্পাতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর সাজেক ইউনিয়নের চাপ আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। গত শনিবার সকালে সন্তান প্রসবের জন্য সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে দুর্ঘটনায় তিনি ও তাঁর গর্ভে থাকা সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।
বিজিবির ডাম্পার গাড়িটির পেছনে বিজিবির আরও দুটি জিপ গাড়ি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই জিপগুলোতে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা ছিলেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, পেছনে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুুত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে গিয়ে ডাম্পার গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে চালানো হচ্ছিল।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুমন্তি চাকমা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন। সকালে একটি অটোরিকশায় করে তাঁকে সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। উপজেলার চাম্পাতলি এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সুমন্তি চাকমা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় আহত এক শিক্ষিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে তিনি নিহত হয়েছেন কি না, এই বিষয়ে জানেন না।
উল্লেখ্য, গত ১৮ই জুলাই সকাল ১০টার সময় সাজেকের ডাব আদাম গ্রামের বাসিন্দা স্বপন চাকমার স্ত্রী ও স্থানীয় ডাব আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমন্তি চাকমা সন্তান প্রসবের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর উদ্দেশ্যে সিএনজি অটোরিকশাযোগে খাগড়াছড়ি জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। যাবার পথে মাচলং ১৪কিলো এলাকায় পৌঁছলে বিজিবির একটি ডাম্প ট্রাক পিছন দিক থেকে তাকে বহনকারী অটোরিকশাকে সজোরের ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং সুমন্তি চাকমাসহ তিন জন গুরুতর আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে সুমন্তি চাকমার মৃত্যু হয়। সাথে মৃত্য ঘটে তার পেটে থাকা অনাগত সন্তানেরও।
উক্ত ঘটনার পর প্রথম আলোসহ দেশের মূলধারার বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম বিজিবির নাম আড়াল করে স্রেফ ‘ট্রাকের ধাক্কায় স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু’ শিরোনামসহ মিথ্যাভাবে সংবাদ প্রকাশ করে।






























