এক বাংলা কিউআর কোডে ব্যাংকিং অ্যাপ সহ মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশের সব ব্যবসায়ীদের Bangla QR কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছেন। এর আগে গত ৩০ জুনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান (MFS: mCash, bKash, Nagad, Rocket ইত্যাদি), পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (PSP), পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান (PSO) গুলোকে নিজস্ব QR-এর পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে Bangla QR কোড চালুর নির্দেশ দেন।
ইতোমধ্যে Bangla QR ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আরও বেশি উৎসাহিত করতে গত ১০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল লেনদেনে ফি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র দোকানি, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা ও ছোট ব্যবসায়ীদের Bangla QR-এর মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণে কোনো ফি দিতে হচ্ছে না। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট Bangla QR কোডে লেনদেনকে উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
Bangla QR-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—একটিমাত্র QR কোডের মাধ্যমে CellFin, ব্যাংকিং অ্যাপ বা MFS (mCash, bKash, Nagad ইত্যাদি) ব্যবহারকারী গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা যায়। ফলে দোকানদারকে mCash, bKash, Nagad কিংবা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য পৃথক পৃথক QR কোড ঝুলিয়ে রাখতে হয় না।
গ্রাহক CellFin, ব্যাংকিং অ্যাপ বা MFS (mCash, bKash, Nagad ইত্যাদি) দিয়ে ব্যবসায়ীর নির্দিষ্ট Bangla QR স্ক্যান করে সরাসরি পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারেন।
এতে-
i. নগদ টাকা গ্রহণ দ্রুত ও সহজ হয় এবং খুচরা টাকার সংকট কমে ক্যাশ হিসাব নিকাশের ঝামেলা কমে।
ii. জাল নোট বা নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি সম্পূর্ণ দূর হয়।
iii. প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে।
iv. ছোট ব্যবসায়ীরাও কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে Bangla QR চালুর ফলে শিক্ষার্থীদের বেতন, ভর্তি ফি, পরীক্ষা ফি, হোস্টেল ফি ও অন্যান্য নির্ধারিত ফি ডিজিটাল মাধ্যমে পরিশোধ করা যাচ্ছে। অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠানের Bangla QR কোড স্ক্যান করে CellFin, ব্যাংকিং অ্যাপ বা MFS (mCash, bKash, Nagad ইত্যাদি) দিয়ে ঘরে বসেই ফি পরিশোধ করতে পারছেন। এতে নগদ টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ঝামেলা যেমন কমছে, তেমনি সময়ও সাশ্রয়ী হচ্ছে।
বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে Bangla QR কোড চালুর ফলে রোগী বা তাদের স্বজনরা দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে সহজেই কোড স্ক্যান করে বিল পরিশোধ করতে পারছেন। একইভাবে রেস্টুরেন্ট, হোটেল, দোকান ও বিভিন্ন পরিবহণেও এই কিউআর কোডের মাধ্যমে সেবা মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও Bangla QR কোড চালুর ফলে দাতারা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত Bangla QR কোড স্ক্যান করে CellFin, ব্যাংকিং অ্যাপ বা MFS (mCash, bKash, Nagad ইত্যাদি) এর মাধ্যমে সরাসরি অনুদান দিতে পারছেন। এতে নগদ অর্থ সংগ্রহের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি অনুদানের স্বচ্ছতা বজায় রাখা সহজ হচ্ছে।
সেভিংস অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের অ্যাকাউন্টে Bangla QR কোড চালু থাকলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে CellFin, ব্যাংকিং অ্যাপ বা MFS (mCash, bKash, Nagad ইত্যাদি) ব্যবহার করে সহজেই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো যাবে।
Bangla QR কোড শুধু বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৬ সালের জুনে গঠিত Bangla QR বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সরকারি বিভিন্ন ফি ও চার্জ আদায়ের ক্ষেত্রেও Bangla QR কোড বাধ্যতামূলক করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
লেখক: মো: ইকবাল হোসেন
ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার,
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি &
সাবেক লেকচারার ক্যামব্রিয়ান কলেজ, ঢাকা।
















