খাগড়াছড়িতে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২৬’ উপলক্ষে, র্যালি ও আলোচনা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে ”বার্ধক্য নয় অভিশাপ, প্রবীণরা আমাদের আশীর্বাদ” এমন প্রতিপাদ্য শ্লোগানে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২৬ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(১লা অক্টোবর সকাল ১১টার সময় টিএনটি গেইট সংলগ্ন খাগড়াছড়ি জেলার বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের নিজস্ব বিল্ডিংয়ের অফিস হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে নানা রঙের রঙিন বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে আগত মেহমান ও সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।
র্যালী শেষে আলোচনা সভা জেলা পর্যায়ের সকল প্রবীণরা একসাথে উপস্থিত হয়ে অংশ গ্রহন করে। একটি সংক্ষিপ্ত র্যালি বের করে ও র্যালি শেষে আলোচনা সভা শুরু করা হয়।
বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি সাধন কুমার চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধেশ্বর চাকমা সভা সঞ্চালনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য এড. রিপল চাকমা, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সুধীন কুমার চাকমা, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক বোধিসত্ত¡ দেওয়ান, সহযোগী অধ্যাপক(অব.) মধূ মঙ্গল চাকমা, শিক্ষাবিদ ধর্মরাজ বড়ুয়া, রতœ কান্তি রোয়াজা ও সন্তোষিত চাকমা বকুলসহ সংশ্লিষ্টরা।
বক্তারা বলেন, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, যাতায়াত, আর্থিক সুরক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করা প্রয়োজন। প্রবীণদের অডেল অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ দেন তারা।
তারা বলেন, প্রবীণদের কল্যাণকে শুধু পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবে না দেখে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেও বিবেচনা করা নিতান্ত প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবায় প্রবীণদের জন্য অগ্রাধিকার, সহজপ্রাপ্যতা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বার্ধক্যজনিত নানা সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।
আলোচনায় প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৫০শতাংশ কোটা মওকুফের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে প্রবীণদের সুবিধার্থে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে দুটি কেবিন বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, প্রবীণদের জন্য নিরাপদ ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা, মানসিক সুস্থতা, চিত্তবিনোদন. সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং একাকিত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রবীণবান্ধব মিলন মেলা পরিবেশ তৈরি হলে তারা সমাজে আরও সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে পারবেন। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্যের আলোকে তারা দীর্ঘায়ু মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা পুনর্বিবেচনা, আন্ত:প্রজন্মীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রবীণদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহŸান জানান।

















