রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১হাজার ৭৩ বস্তা সার জব্দ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে সপ্তাহব্যাপী এক বিশেষ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ধারাবাহিক অভিযানে মোট ১ হাজার ৭৩ বস্তা অবৈধ মজুদ ও অনুমোদনহীন সার উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে একটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা এবং জব্দকৃত সার কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার)- মেসার্স রহিম এন্টারপ্রাইজে অভিযান:গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের পালপুরে অবস্থিত ‘মেসার্স রহিম এন্টারপ্রাইজ’ এর গোডাউনে প্রথম অভিযানটি চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ২২ বস্তা অনুমোদনহীন এমওপি সার পাওয়া যায়। অনুমোদনহীন সার রাখার দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত ২২ বস্তা সার তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি মূল্যে বিক্রি করে লব্ধ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকাল – গোয়ালঘর থেকে সার উদ্ধার:গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে দেওপাড়া ইউনিয়নের কানাইডাঙ্গা এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখানে খুচরা কীটনাশক ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিনের (৪৫) বাড়ির পেছনের একটি গোয়ালঘরে সন্দেহভাজন তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখা ১৩২ বস্তা অবৈধ সার উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ৮৬ বস্তা এমওপি (পটাশ) এবং ৪৬ বস্তা ডিএপি সার ছিল।
২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) রাত – দুধাই গ্রামে বিশাল মজুদ জব্দ:একই দিন (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মোহনপুর ইউনিয়নের দুধাই গ্রামে আরেকটি বড় ধরনের অভিযান চালায় প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে একটি গোপন আস্তানা থেকে ৯১৯ বস্তা অবৈধভাবে মজুদ করা সার জব্দ করা হয়।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই সপ্তাহব্যাপী চিরুনি অভিযান চালানো হয়েছে। জব্দকৃত মোট ১,০৭৩ বস্তা সারই স্থানীয় কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, কৃষকের অধিকার ক্ষুণ্ন করে সারের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলে আগামীতেও এমন কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।