প্রাথমিকের ১ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থী পাবে পুষ্টিকর খাবার: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বছর থেকে দেশের প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির ওরিয়েন্টেশন ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ১৫০টির বেশি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চলছে। এতে ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। প্রকল্পের শুরুতে খাবারের সরবরাহ ও মান নিয়ে কিছু সমস্যা থাকলেও বর্তমানে সেগুলো অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নিম্নমানের বা পচা খাবার সরবরাহ করা হলে তা গ্রহণ না করে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পচা খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার বাতিলসহ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নীতিমালাও করা হয়েছে।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের পর গত দুই থেকে আড়াই মাসে বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। পাইকগাছার ১৬৭টি বিদ্যালয়েও সরবরাহজনিত সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। পাইলট প্রকল্পকে প্রায় শূন্য ত্রুটির কাছাকাছি নেওয়া সম্ভব হওয়ায় ২০২৭ সালে দেশব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়নে তারা আশাবাদী।’
প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন কারিকুলাম ও শিক্ষক নীতিমালার আলোকে নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের শুধু বিষয়জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি কীভাবে সহজে উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
দেশব্যাপী শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। এ নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষে ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে যোগ দেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট শূন্যপদগুলো পূরণে কাজ করছে সরকার। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট অনেকটাই দূর করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।’
সভায় খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মতিয়ার রহমান, ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মো. মাসুদ হোসেন, খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম।
অনুষ্ঠানে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।






























