নেপালে পাহাড়ধসে আটকে গেছে নদী, যে কোনো সময় নামতে পারে বন্যা

নেপালে পাহাড়ধসে চৌলানি নদীর একটি অংশের গতিপথ আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে নদী অববাহিকায় যে কোনো সময় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে নদী সংলগ্ন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দারচুলা জেলার আপি হিমাল গ্রামীণ পৌরসভার ভাট্টার এলাকায় এই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের মাটি ও ধ্বংসাবশেষ নদীতে পড়ে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, নতুন করে পাহাড়ধস হলে নদীর গতিপথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে নদীতে পানি জমে হঠাৎ প্রবল স্রোতে নিচের দিকে নেমে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ
দারচুলার জেলা প্রশাসন নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে। জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

বাসিন্দাদের সতর্ক করতে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনে উদ্ধার ও জরুরি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নেপালের সুদূরপশ্চিম প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী খগরাজ ভট্ট স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতেও বলেছেন তিনি।

পানিপ্রবাহে সতর্ক নজর
নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, এই মুহূর্তে চৌলানি নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখা হচ্ছে।

বালাঞ্চের নেপাল চামেলিয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা ঘাঁটির সদস্যদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করার কাজও করছেন।

চৌলানি নদী চামেলিয়া নামেও পরিচিত। নদীটির উৎপত্তি আপি হিমাল অঞ্চলে। পরে এটি মহাকালী নদীতে গিয়ে মিশেছে। মহাকালী নদী নেপাল ও ভারতের সীমান্তের একটি অংশ তৈরি করেছে।

বন্যার শঙ্কা বাড়াচ্ছে নতুন পাহাড়ধস
সম্প্রতি নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রাণহানির পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও চলছে।

এর মধ্যেই চৌলানি নদীতে পাহাড়ধসের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

নদীর গতিপথ আরও বন্ধ হয়ে গেলে জমে থাকা পানি হঠাৎ বেরিয়ে গিয়ে নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা তৈরি করতে পারে। এ কারণে নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, অন্নপূর্ণা পোস্ট