দেশে থাকার সাহস হয়নি, এখন বাইরে বসে আস্ফালন করছেন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

জনগণের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে দেশে থাকার সাহস হয়নি, এখন বাইরে বসে অনেক আস্ফালন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের সৎ সাহস থাকলে দেশে ফেরার কথাও বলেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আজকের পরিস্থিতি হচ্ছে স্বৈরাচার পালিয়েছে। পালিয়েছে কেন? কারণ, প্রায় ১৭টি বছর এই দেশের মানুষ অনির্বাচিত সরকার দেখেছে এবং রাতের সরকার, বিনা ভোটের সরকার দেখেছে। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে তাদের সৎ সাহস ছিল না জনগণের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগের পরে দেশে থাকার। এখন ওনারা বাইরে বসে অনেক আস্ফালন করছেন।’

এ সময় আওয়ামী লীগের উদ্দেশে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘একটা কথা আছে যে ‘ঘুপচি’। আমরা ওই ঘুপচি আন্দোলন বা ঘুপচি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমার কথা হচ্ছে আপনাদের যদি সৎ সাহস থাকে, তাহলে সামনে আসেন। আর এই যে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মেরেছেন, দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করেছেন এবং মেগা প্রকল্পের নামে মেগা ডাকাতি করেছেন, সেগুলোর হিসাব কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে হবে।’

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আইন আদালতের মাধ্যমে মুখোমুখি হন, আপনাদের যদি সৎ সাহস থাকে, তাহলে তো পালিয়ে থাকার দরকার নাই। অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ারও দরকার পড়ে না। আইন আদালত যদি বলে আপনারা নির্দোষ, তাহলে তখন গণতন্ত্রকামী মানুষ সেটা মেনে নেবে।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, উনারা (আওয়ামী লীগ নেতারা) বুঝতে পেরেছেন যে উনাদের অবস্থান কোথায়। এ জন্যই কিন্তু উনারা আজকে সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্নভাবে অথবা এআইয়ের (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) মাধ্যমে বিদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানি দিচ্ছেন।

এদিকে সভা শুরুর পর মন্ত্রীর উপস্থিতেই বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্য ঘিরে নেতা–কর্মীদের মধ্যে হট্টগোল দেখা দেয়। আসাদুল্লাহ তার বক্তব্যে দলকে ‘হাইব্রিড মুক্ত’ করার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘বোদা থেকে পঞ্চগড়ে এসে ‘এই আসাদ’ একসময় পার্টি অফিসের দরজা খুলেছে।’

আসাদুল্লাহর এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে কিছু নেতা-কর্মী প্রতিবাদ জানিয়ে হইচই ও হট্টগোল শুরু করেন। পরে মন্ত্রীসহ অন্য নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করেন।