২০২৮ সালের আগেই আরেকটি ভাসমান টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ: মাহদী আমিন

শিল্প ও ব্যবসা খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২৮ সাল শুরুর আগেই তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। পাশাপাশি মধ্যমেয়াদে প্রায় ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলে আরও ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ২০টির বেশি ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারের দুই, পাঁচ ও ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমানে দেশে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটি দীর্ঘদিন অচল থাকার পর সেটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টার্মিনালের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রথমে তিনটি এবং পরে পাঁচটি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৮ সাল শুরুর আগেই তৃতীয় এফএসআরইউ যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে শুধু এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, প্রায় ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের প্রক্রিয়া চলছে। এসব কাজ শেষ হওয়ার পর আরও ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর পাশাপাশি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তিকে অগ্রাধিকার
বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, তেল, গ্যাস ও কয়লার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিভিন্ন জ্বালানি উৎসের সমন্বয়ে একটি বৈচিত্র্যময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি সম্পদে স্বনির্ভরতা অর্জনের পাশাপাশি সৌরশক্তিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য এমন একটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে শিল্প ও ব্যবসা খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হয় এবং একই সঙ্গে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বজায় থাকে।
নীতি সহায়তা দেবে সরকার, বাস্তবায়নে বেসরকারি খাত
ব্যবসায়ী নেতাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব বৈঠকে উঠে এসেছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পেছনে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেবে এবং বেসরকারি খাত সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবে।
তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার কারণে অর্থনীতিতে যে পুঞ্জীভূত সংকট তৈরি হয়েছে, তা এক দিন, এক মাস বা এক বছরে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দায়বদ্ধতা, আন্তরিকতা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলোকে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবেও দেখছে সরকার বলে জানান তিনি। ব্যবসায়ী সংগঠন ও অ্যাপেক্স বডিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। এ ধরনের মতবিনিময় সভা ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে ২০টির বেশি ব্যবসায়ী সংগঠন
মতবিনিময় সভায় সরকারের পক্ষ থেকে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সচিব এবং পেট্রোবাংলা ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে এফবিসিসিআই, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি), বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন, ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন এবং রিহ্যাবের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।






























