গাওছুল আযম বড়পীর আবদুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি’র ফাতিহায়ে ইযাজদাহম

হিজরি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের কাছে ‘ফাতিহায়ে ইয়াজদাহম’ হিসেবে পরিচিত। ‘ইয়াজদাহম’ ফার্সি শব্দ, যার অর্থ এগারো। এটি প্রখ্যাত সুফি সাধক, ‘বড় পীর’ বা ‘পীরানে পীর’ নামে খ্যাত হযরত শায়খ আবদুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর ওফাত দিবস।

এ দিনে তাঁর স্মরণে ও রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে বিশেষ মাহফিল ও দোয়া-مناজাত অনুষ্ঠিত হয়। সাইয়্যিদুল আউলিয়া আবদুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি শুধু একজন শ্রেষ্ঠ আলেম ও সুফি সাধকই ছিলেন না, বরং তাঁর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল সুন্নতে নববীর অনুসরণে ভাস্বর। তাঁর বাল্যকালের একটি বিখ্যাত ঘটনা আজও আমাদের সত্যবাদিতা ও তাকওয়ার অনন্য শিক্ষা দেয়।

​ডাকাত দলের হৃদয় পরিবর্তনের ঐতিহাসিক ঘটনা
​জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে তরুণ আবদুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন মায়ের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে বাগদাদের পথে রওনা হচ্ছিলেন, তখন তাঁর মা পোশাকের নিচে গোপন পকেটে ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা সেলাই করে দেন। বিদায়বেলায় মা তাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেন: “বাছা!

জীবনে পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, কখনো মিথ্যা বলবে না, সর্বদা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।”বাগদাদের পথে কাফেলার সঙ্গে যাওয়ার সময় হঠাৎ একদল ডাকাত তাদের আক্রমণ করে। ডাকাতেরা কাফেলার সবার ধন-সম্পদ লুট করতে থাকে। এক ডাকাত ছোট আবদুল কাদেরের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, “তোমার কাছে কি কিছু আছে?তিনি একটুও ভয় না পেয়ে সচ্ছলভাবে উত্তর দিলেন,“হ্যাঁ, আমার কাছে ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা আছে।”

​ডাকাতটি প্রথমে ভেবেছিল শিশুটি হয়তো কৌতুক করছে। সে তাকে সর্দারের কাছে নিয়ে গেল। ডাকাত সর্দারও একই প্রশ্ন করলে তিনি জামার সেলাই খুলে স্বর্ণমুদ্রাগুলো দেখিয়ে দিলেন।

​অবাক হয়ে ডাকাত সর্দার জিজ্ঞেস করল, “তুমি তো এগুলো লুকিয়ে রাখতে পারতে, আমরা তো টের পেতাম না! কেন সত্য কথা বললে?”আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিনীত কণ্ঠে জবাব দিলেন, “আমার মা আমাকে বিদায়কালে নির্দেশ দিয়েছেন কখনো মিথ্যা না বলতে। সামান্য কিছু টাকার জন্য আমি আমার মায়ের আদেশ ও আল্লাহর হুকুম অমান্য করে মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারি না।”

​এক ছোট্ট শিশুর মুখে আল্লাহভীতি ও সত্যবাদিতার এই দৃঢ়তা দেখে ডাকাত সর্দারের মনে গভীর নাড়া দিল। সে অনুতপ্ত হয়ে কেঁদে ফেলল এবং বলল, “ধিক্কার আমার জীবনে! একজন শিশু হয়ে তুমি মায়ের আদেশ পালন করছ, আর আমি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে সারা জীবন আল্লাহর আদেশ অমান্য করছি!”ডাকাত সর্দার সঙ্গে সঙ্গে তওবা করল এবং লুট করা সমস্ত মালামাল কাফেলাকে ফেরত দিল। সেই ডাকাত দলের সমস্ত সদস্য তাঁর সত্যবাদিতার প্রভাবে হেদায়েত লাভ করে এবং পাপের পথ ছেড়ে দেয়।

(শিক্ষণীয় ও বার্তা) ‘ফাতিহায়ে-ইয়াজদাহম’কেবল আনুষ্ঠানিক মিলাদ বা দোয়ার দিন নয়, বরং এটি হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি -এর আদর্শকে জীবনে বাস্তবায়ন করার দিন।(সত্যের শক্তি)
সত্য কথা বলা কঠিন মনে হলেও তার ফলাফল সর্বদা কল্যাণকর।

(পিতা-মাতার আনুগত্য) মায়ের দেয়া ছোট একটি উপদেশ পুরো জীবনের দিক পরিবর্তন করে দিতে পারে।
(সুন্দর আচরণের দাওয়াত) কোনো জোর-জবরদস্তি ছাড়া কেবল নিজের চরিত্র ও সততা দিয়েও অন্যের হৃদয় জয় করা যায়।আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মহান অলি-বুজুর্গদের আদর্শ অনুকরণ করে সত্য ও আমানতদারিতার ওপর জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন।