ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে নানা ধরনের আলোচনা ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ২নং পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের দত্তের পশারিবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জাহিদ জোমাদ্দার একই গ্রামের সামছুলহক জোমাদ্দারের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, বান্দরবান সেনানিবাসে সৈনিক হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জাহিদ ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে ফোনে বিরক্ত করে আসছিলেন। ঘটনার রাতে ওই নারী ঘরের বাইরে যাওয়ার সুযোগে জাহিদ ঘরে প্রবেশ করেন এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তার ডাক-চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী বলেন, রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি বাইরে যান। পরে ঘরে ফিরে দেখেন জাহিদ ঘরের ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। এরপর তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার করেন। তার চিৎকার শুনে শ্বশুর ও স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর শ্বশুর সেলিম হাওলাদার বলেন, “বিগত অনেক দিন ধরে জাহিদ আমার পুত্রবধূকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করছিলেন। ঘটনার রাতে জাহিদ ঘরে ঢুকে আমার পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে চিৎকার শুনে আমি ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যাই।”
তিনি আরও জানান, পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে ফজরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ উভয় পক্ষের অভিভাবকসহ জাহিদ ও ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায়। পরে দুপুরের দিকে তারা বাড়িতে ফিরে আসেন বলে জানান তিনি।
তবে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটিকে ধর্ষণের চেষ্টা নয়, বরং পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধ বলে দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত জাহিদ জোমাদ্দারের বাবা সামছুলহক জোমাদ্দার বলেন, ঘটনার পর পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়। পরে জাহিদকে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডেকে পাঠালে তিনি ইউনিটে চলে যান।
অভিযুক্ত জাহিদ জোমাদ্দারের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখন ইউনিটে আছি। স্যারদের অনুমতি ছাড়া কিছু বলা যাবে না।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে কাঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান বলেন, “ঘটনার কথা শুনে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। দুই পক্ষের কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”























