কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি? যা বলছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন নাম আলোচনায় এলেও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে—দলীয় নেতৃত্ব থেকেই রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে অবস্থান তাদের। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার পর।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। বর্তমান সংবিধান সংশোধিত না হওয়ায় বিদ্যমান পদ্ধতিতেই জাতীয় সংসদের ৩৫০ সদস্যের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘কন্সটিটিউশন অনুযায়ী যা হবার তাই হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয় সংসদের সদস্যদের ভোটে। ন্যাচারালি বিএনপি যাকে নমিনেট করবে সে রাষ্ট্রপতি হবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘এই পরিবর্তনটা সংবিধানের ধারা অনুযায়ী হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটের উপরেই। সেখানে সংগত কারণেই বিএনপি যেহেতু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় সংসদে আছে, তাদের মনোনীত প্রার্থী যিনি, তিনিই তো নির্বাচিত হয়ে আসবেন।’
রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলেও সংবিধানের বিধান উল্লেখ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে নিয়মই আছে। রাষ্ট্রপতি যদি রিজাইন করে তাহলে স্পিকার অ্যাক্টিং রাষ্ট্রপতি হয়, আন্টিল দি ইলেকশন অফ নেক্সট প্রেসিডেন্ট।’
এদিকে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীও।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই কাউকে বেছে নেওয়ার পক্ষে মত দেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে বিশ্বস্ত, দলের প্রতি আনুগত্য এবং পরীক্ষিত জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার অনুসারী, এরকম যারা তাদের মধ্য থেকেই গিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া উচিত। কারণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্য থেকে হলে হয় কি, রাজনীতিবিদের পক্ষ কিংবা প্রতিপক্ষ উভয়দিকেই সম্মান বোধ করার একটা নৈতিকতা জন্ম নেয় ভেতরে। আর প্রফেশনাল যারা, তারা কিন্তু একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে চলাফেরা করেন। একজন রাজনীতিবিদ কিন্তু হুট করে রাস্তার পাশের চায়ের দোকানেও বসতে পারেন, আবার ইচ্ছা করলে বঙ্গভবনে গিয়েও একটা রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। এই গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ তো বিএনপিতে আছে।’
রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে জানান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘দল নিজেরা পরামর্শ করে ঠিক করবে কাকে মনোনয়ন দিবে। নির্বাচন কমিশনের একটা ফরমালিটি আছে, ফরম ফিলাপ করে ইত্যাদি, তারপরে ইলেকশন হয় পার্লামেন্টে। আমরা মনে করি যে দলের থেকেই রাষ্ট্রপতির মনোনয়নটা হওয়া উচিত।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় অরাজনৈতিক কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে দলীয় নেতাকেই রাষ্ট্রপতি করার প্রবণতা স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত আসবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকেই।
সূত্র: যুমনা টিভি





























