খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ইউপিডিএফ-পিসিজেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে গুলিবিনিময়

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলায় তারাবন ভাবনাকেন্দ্র এলাকায় সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র কর্মীদের অবস্থান নেওয়ার সাথে সাথে ইউপিডিএফ-পিসিজেএসএসের সশস্ত্র গ্রæুপের মধ্যে প্রচন্ড গুলিবিনিময় হয়েছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তবে এক ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগ পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের বিরুদ্ধে। জেলার পানছড়ি উপজেলার ২নম্বর চেঙ্গি ইউনিয়নের পেত্তুয়া পাড়া ও জগা পাড়া এলাকায় ইউপিডিএফ(মূল) ও পিসিজেএসএস(মূল) এর সশস্ত্র গ্রæপের মধ্যে থেমে থেমে গুলিবিনিময়ের হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৪ঠা সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টা থেকে ইউপিডিএফ(মূল) এর সশস্ত্র গ্রæুপ কমান্ডার সুমেন চাকমার নেতৃত্বে ৩৫ থেকে ৪০জন এবং পিসিজেএসএস (মূল) এর সশস্ত্র গ্রæুপ কমান্ডার বিবর্ণ চাকমার নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০জনের মধ্যে এ গুলিবিনিময় চলছিল।
এ পর্যন্ত আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০রাউন্ড গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, জেলার পানছড়ি উপজেলা ২নং চেঙ্গী ইউনয়নের তারাবন ভাবনাকেন্দ্র(বিহার)-এর আশে-পাশেসহ কয়েকটি স্থানে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র কর্মীরা অবস্থান করায় এলাকার জনমনে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও প্রচন্ড ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সশস্ত্র কর্মীদের অবস্থানের কারণে ভয়ে এলাকার লোকজন(দায়ক-দায়িকা) বিহার ভাবনাকেন্দ্রে যেতে পারছে না। ফলে সেখানে অবস্থানরত বৌদ্ধ ভিক্ষুরা চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এছাড়া সন্ত্রাসীরা ওয়াইফাই নেটওয়াকের লাইন কেটে দেওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অসুবিধায় পড়েছেন এলাকাবাসী।
তারাবন ভাবনাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ হতাশাগ্রস্ত হয়ে ফেসবুকে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি চাকমা ভাষায় লেখেন, “বেক নীরব, হন পরান বলা এই ন পারন দরে…” (অর্থাৎ সবদিকে নীরব, ভয়ে কোন মানুষ আসতে পারেনি..)।
এ বিষয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আতঙ্কে সকাল থেকে কোনো দায়ক-দায়িকা(যারা ভিক্ষুদের জন্য ‘সিয়োং’ রান্না করতে যায়) আসেনি। আমরাও রুমের ভেতর থেকে বের হতে পারছি না। ওয়াইফাই নেটওয়াকের লাইনও কেটে দেওয়া হয়েছে। সবার ফোন বন্ধ। কাউকে কল দিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে নাকি বন্ধ রেখেছে তাও জানি না।”
তিনি একটু বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছেন, “তোমরা সুখি হও, আমাদের নিয়ে তোমাদের চিন্তা করতে হবে না, এই জাতির কাছে আমাদের আর কিছু বলার নেই।”
উল্লেখ্য, গতকাল (৩রা সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র কর্মীরা জগপাড়া এলাকায় এসে অবস্থান নেয়। বর্তমানে সশস্ত্র কর্মীরা তারাবন ভাবনা কেন্দ্র ও তারাবন গির্জা লাম্বু পাড়ার মূল রাস্তার পাশে, জগপাড়ার শেষ মাথা-হিজিংও মুড়ো, জগপাড়ার দোকান সংলগ্ন, জগপাড়া প্রাইমারি স্কুল এলাকায় বাঙ্কার বানিয়ে অবস্থান করছে। গতকাল থেকে সেখানে তারা এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ার করে এলাকার জনগণকে আতঙ্কিত করে রেখেছে।
সশস্ত্র কর্মী দলটিতে পানছড়ি থেকে সন্তু গ্রæুপের যোগ দেওয়া সঞ্জয় চাকমা, প্রতুত্তর চাকমা ও জলেয়্যে চাকমা তরাও(আগে ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর সর্দার) রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সশন্ত্র কর্মীরা গতকাল ইউপিডিএফের এক কর্মীর বাড়িতে পালিত একটি গরু গুলি করে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র কর্মী দলটি প্রকাশ্যে অবস্থান করলেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় জনমনে নানা প্রশ্ন, ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সেনাবাহিনীর একটি কায়েমি স্বার্থবাদী অংশ সন্তু গ্রæুপকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা প্রদান করছে- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
এবার সশন্ত্র কর্মীদের তারাবন ও জগপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র আবস্থানের ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনীর যোগসাজশ রয়েছে বলে এলাকাবাসী ধারণা করছেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে সন্তু গ্রæুপের পিসিজেএসএস-ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: ফেরদোস ওয়াহিদ ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, পিসিজেএসএস-ইউপিডিএফ’র গোলাগুলি বিষয়ে সোর্সসের মাধ্যমে জেনেছি। তবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে পানছড়িতে এক ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগ পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের বিরুদ্ধে। জেলার পানছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের হলধর পাড়া থেকে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র কর্মীরা এক ব্যক্তিকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার(২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে এ অপহরণ ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
অপহৃত ব্যক্তির নাম পঙ্কজয় চাকমা(সুভাগ্য), বয়স: ৪৩, পিতা: মৃত শান্তি ময় চাকমা, গ্রাম: হলধর পাড়া, ২নং ওয়ার্ড, পানছড়ি সদর ইউনিয়ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃধবার সকাল ১১টার সময় সন্তু গ্রæপের সশস্ত্র কমান্ডার পাভেল চাকমার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র কর্মী হলধর পাড়ায় হানা দিয়ে সাধারণ গ্রামবাসী পঙ্কজয় চাকমাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পঙ্কজয় চাকমাকে অপহরণের কারণ জানা যায়নি। তবে সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র কর্মীরা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পানছড়ির সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করে প্রায়ই খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। এতে সাধারণ জনগণও রেহাাই পাচ্ছে না।





























