নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় বেহাল প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার

কাগজপত্রে আছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, কিন্তু নিয়মিত সঠিক পাঠদান হচ্ছে না। বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ব্যস্ততা থাকার কথা থাকলেও এখানে উল্টো চিত্র। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক সকাল সাড়ে ১০টায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে গেলেন অপর আরও দুই শিক্ষক টিফিনের কথা বলে চলে গিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরলেন ৩টায়।

সাংবাদিকের ক্যামেরা দেখে চটলেন ওই দুই শিক্ষক একপর্যায়ে ভিডিওতে এসে বাঁধা দেন। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের ৮নং মুন্সিপাড়া ভাদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গেলে মিলে এমন চিত্র।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রাক প্রাথমিক হতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ৭২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দ্বিতীয় শিফটে ২য় শ্রেণী হতে ৫ম শ্রেণী থাকা শিক্ষার্থীরা সব মিলিয়ে মাত্র ১০ থেকে ১৫ জন উপস্থিত। শিক্ষার্থীদের দৈনিক হাজিরা খাতাতে রয়েছে অসঙ্গতি। গত ৪ দিন আগের শিক্ষার্থী উপস্থিতি লিখা হয়নি। আবার কোথাও ৩ দিন এমনকি আজ সারাদিনের পাঠদানের শিক্ষার্থী উপস্থিতি উঠেনি খাতায়।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা শিক্ষার্থীদের হাজিরা এক সঙ্গে দেওয়া হয় খাতাপত্র ঠিক রাখতে। অন্যদিকে বিদ্যলায়টির সহকারী শিক্ষক মুর্শিদা খাতুন সকালে বিদ্যালয়ে এসে স্বাক্ষর করে সাড়ে ১০টায় চলে যান বাড়িতে, অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম বাড়িতে গেলে দুজনের উপস্থিত মিলে বেলা ৩টায়।

যে কারণে নিয়মিত রুটিনের বইয়ের পাঠদানও হয়নি। এর আগেও চলতি বছরের গত ৩ আগস্ট দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে এই বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে তালা লাগিয়ে চলে যেতে দেখা যায় শিক্ষকদের। প্রতিবেদকের হাতে আসে একটি ভিডিও।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী জুনাইদ মিয়া জানায়, দুপুর ১২ টার পর থেকে মাত্র একটি বইয়ের পাঠদান হয়েছে। টিফিনের পর এখন খেলাধুলা করছি একটু পরেই ছুটি হয়েযাবে।

বিদ্যলয়টির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নামতা লিখতে এবং বলতে বললে তারা ভুল করছে অহরহ। কেউ আবার বলতেই পারছে না। নিজে কোন শ্রেণিতে পড়ে বানান করে বলতে পারছে না অনেকেই।

এ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আফজাল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগন সচেতন না। শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে পড়াশোনা করে না। এলাকাটি অবহেলিত অন্যান্য বিদ্যালয় থেকে এই বিদ্যালয় পিছিয়ে থাকার কথাটিও অস্বীকার করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ম্যাডাম মুর্শিদা খাতুন সকালে এসে আমার কাছে ছুটি চায় ওনার বাচ্চা অসুস্থ তাই চলে গেছেন। অন্য দুই শিক্ষক টিফিনে দোকানে গেছিলো আসতে দেরী করেছে। টিফিন সময় ছিল ২টা ১৫ পর্যন্ত কিন্তু আসছে প্রায় বেলা ৩টায়।

হাজিরা খাতায় অনিয়মের প্রশ্নে তিনি বলেন, যে যে শিক্ষক যে ক্লাস নেন তিনিই বুঝবেন কেন হাজিরা দেননি।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন করায় অনিয়মের বিষয়টি দুঃখজনক। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো এবং বিভাগীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।