জোড়া গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে জেতালেন রদ্রিগো

ভিনিসিউস জুনিয়রের অনুপস্থিতিতে জ্বলে উঠলেন আরেক ব্রাজিলিয়ান তারকা রদ্রিগো। করলেন চমৎকার দুইটি গোল। তার দাপুটে পারফরম্যান্সে অ্যাথলেতিকো বিলবাওকে হারিয়ে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানে ফের আট পয়েন্টে এগিয়ে গেল কার্লো আনচেলত্তির দল।

সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে রবিবার (৩১ মার্চ) রাতে লা লিগার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতেছে স্পেনের সফলতম দলটি। তাদের একটি প্রচেষ্টা পোস্টে না লাগলে ব্যবধান হতে পারত আরও বড়।

লিগ টেবিলে চারে থাকা বিলবাওয়ের বিপক্ষে কার্ডের খাঁড়ায় ছিলেন না রিয়ালের আক্রমণভাগের বড় ভরসা ভিনিসিউস। লিগে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এদিন ফেরেন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম।

 

চলতি আসরে সবচেয়ে বেশি ‘ক্লিন শিট’ রাখা বিলবাওয়ের বিপক্ষে অষ্টম মিনিটে প্রথম আক্রমণে রদ্রিগোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। ডান দিক থেকে ব্রাহিম দিয়াসের ক্রস বাম দিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আড়াআড়ি এগিয়ে যান তিনি। তার সামনে দুই দিকে ছিল প্রতিপক্ষের তিন-চার জন খেলোয়াড়। বক্সের বাইরে থেকে এই উইঙ্গারের ডান পায়ের বুলেট গতির শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জড়ায় জালে।

মাঝে অনেকটা সময় পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দল। ৩৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে গোলরক্ষক বরাবর শট করেন টনি ক্রুস। পাঁচ মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে ফেদে ভালভের্দের ভলি ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন গোলরক্ষক। ৪৪তম মিনিটে কর্নারে অহেলিয়া চুয়ামেনির হেড পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে ভাগ্যের ফেরে গোল পাননি ব্রাহিম। রদ্রিগোর পাসে ২৪ বছর বয়সী উইঙ্গারের কোনাকুনি নিচু শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৫২তম মিনিটে আরেকটি দারুণ সেভ করে ব্যবধান ধরে রাখেন লুনিন। কাছ থেকে ইনাকি উইলিয়ামসের শট ফিরিয়ে দেন ইউক্রেইনের এই গোলরক্ষক।

৬০তম মিনিটে বিলবাওয়ের এক ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জে রদ্রিগো বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন করেন রিয়ালের খেলোয়াড়রা। তবে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। ডাগআউটে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান কোচ আনচেলত্তি। ৭৩তম মিনিটে আরেকটি দারুণ গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রদ্রিগো। মাঝমাঠের কাছাকাছি থেকে বেলিংহ্যামের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, সামনে থাকা প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে ডান পায়ের শটে খুঁজে নেন ঠিকানা।

চলতি মৌসুমে লিগে রদ্রিগোর গোল হলো ১৫টি, সঙ্গে অ্যাসিস্ট আছে ৮টি। দর্শকদের করতালির মাঝে যোগ করা সময়ে মাঠে নামেন এদের মিলিতাও। এসিএল চোট কাটিয়ে সাত মাস পর মাঠে ফিরলেন রিয়ালের এই ডিফেন্ডার। ৩০ ম্যাচে ২৩ জয় ও ৬ ড্রয়ে রিয়ালের পয়েন্ট হলো ৭৫। সমান ম্যাচে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনা দুইয়ে আছে, ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে জিরোনা। চার নম্বরে বিলবাওয়ের ৫৬ পয়েন্ট।