থমকে গেছে জীবন

পায়ের ওপর ট্রাক, তিন সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে মানবেতর জীবন সাগরের

দুই বছর আগে পায়ের ওপর দিয়ে ট্রাক চলে যাওয়ার পর থেকেই থমকে গেছে সাগর হোসেন মোল্লার (৪৫) স্বাভাবিক জীবন। দুর্ঘটনার পর কর্মক্ষমতা হারিয়ে বর্তমানে স্ত্রী, ছোট তিন সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাগর।

সাগর হোসেন মোল্লা যশোরের মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের মাঝিয়ালি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর দুই মেয়ে যথাক্রমে সপ্তম ও চতুর্থ শ্রেণিতে এবং এক ছেলে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।
সাগর হোসেন বলেন, দুই বছর আগে পায়ের ওপর ট্রাক উঠে যাওয়ার পর থেকে আমি পঙ্গু হয়ে রয়েছি। আগের মতো চলাচল করতে পারিনা। সংসারে ছোট ছোট তিনটি সন্তান, স্ত্রী আর বৃদ্ধা মা। তাদের মুখের দিকে তাকালে খুব কষ্ট হয়। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারছি না, সংসারের খরচও ঠিকমতো দিতে পারছি না। কেউ যদি আমার জন্য একটি ছোটখাটো জীবিকার ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে আমি নিজের পরিশ্রমে পরিবারটাকে চালানোর চেষ্টা করব।

স্থানীয়দের মতে, সহায়তা পেলে সাগর আবারও কোনো হালকা কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তাঁর জন্য একটি স্থায়ী বা উপযোগী জীবিকার ব্যবস্থা করা গেলে পরিবারটির কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে এবং সন্তানদের পড়াশোনাও অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন সানজিদা জেরিন।

সাগর হোসেনের মতো একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন মানবিক দায়িত্ব। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবানদের প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারও ছোট একটি সহায়তাই হতে পারে একটি অসহায় পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন এবং তাদের মুখে ফুটিয়ে তুলতে পারে হাসি।