নেই কার্যকর বাজার মনিটরিং
রাজগঞ্জ বাজারে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস আকাশছোঁয়া দামে দিশেহারা নিম্নআয়ের মানুষ

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস—প্রায় প্রতিটি পণ্য কিনতেই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ে কোনো কার্যকর নজরদারি নেই। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে পণ্যের দাম নির্ধারণ করছেন এমন অভিযোগও রয়েছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় ক্রেতাদের একপ্রকার অসহায় অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।
রাজগঞ্জ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা কয়েকজন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকটি পণ্য কিনতেই তাদের দৈনন্দিন আয়ের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা ছোট করেও সংসারের খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় মুজিবর রহমান নামের এক দিনমজুর বলেন, দিনে যে টাকা আয় করি, বাজারে আসলে মনে হয় টাকা সঙ্গে করে আনিনি। আগে যে পরিমাণ পণ্য কিনতাম, এখন তার অর্ধেকও কিনতে পারি না। পরিবারে কারও প্রয়োজন হলেও অনেক সময় কিনে দিতে পারি না।
আরেক ভুক্তভোগী গৃহিণী লাকী খাতুন বলেন, প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন নতুন দাম শুনতে হচ্ছে। এক দোকানে এক দাম, আরেক দোকানে আরেক দাম। বাজারে কেউ ঠিকমতো দেখছে কি না, সেটাও বুঝতে পারি না। সংসারের খরচ সামলাতে গিয়ে আমাদের নাভিশ্বাস উঠেছে।
এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিলন রহমান বলেন, বাজারে নিয়মিত মনিটরিং থাকলে পণ্যের দাম নিয়ে স্বচ্ছতা বাড়ত। এখন ক্রেতারাও অনেক সময় দোকানদারের কাছে জবাবদিহি করতে পারেন না। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু বাজারে অভিযান চালালেই হবে না; পণ্যের ক্রয়মূল্য, বিক্রয়মূল্য, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং মজুত পরিস্থিতিও নিয়মিত তদারকি করতে হবে। কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে বেশি দাম নিলে কিংবা মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত রাজগঞ্জ বাজারে দৃশ্যমান কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। ফলে বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত রাজগঞ্জ বাজারে অভিযান ও নিয়মিত বাজার মনিটরিং শুরু করবে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে যখন সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, তখন রাজগঞ্জ বাজারে প্রশাসনের নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।






























