বগুড়ার শিবগঞ্জে হিমাগারের অব্যবস্থাপনায় আলু নষ্ট; ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানববন্ধন

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলায় অবস্থিত আর এন্ড আর হিমাগারে আলু সংরক্ষণে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। হিমাগারের গাফিলতির কারণে হাজার হাজার বস্তা আলু নষ্ট হয়ে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন তারা।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় হিৃাগারের প্রধান ফটকের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে শতাধিক কৃষক ও ব্যবসায়ী অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কোল্ড স্টোরেজটির ধারণক্ষমতা যেখানে ২ লাখ ৫০ হাজার বস্তা, সেখানে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ৫০ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে গ্যাস পাইপলাইনে সমস্যা সৃষ্টি হয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হয়, ফলে আলুতে অঙ্কুরোদগম ও পচন ধরে যায়।
ভুক্তভোগী কৃষক মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন,
“আমি ২৫০ বস্তা বীজ আলু রেখেছিলাম। এখন প্রতিটি বস্তায় গাছ গজিয়েছে। এতে আমার প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হবে। হিমাগার কর্তৃপক্ষের অবহেলাই এর জন্য দায়ী।”
আলু ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, “আমি ৬০০ বস্তা আলু রেখেছিলাম। সব আলুতেই গাছ বের হয়ে গেছে। প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এখন নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার পথে।”
এ বিষয়ে আর এন্ড আর কোল্ড স্টোরেজ প্রাঃ লিঃ-এর স্বত্বাধিকারী শওকত আলী ভূইয়া বলেন, “রোমানা জাতের আলু সাধারণত বীজ হিসেবে সংরক্ষণযোগ্য নয়। কৃষকরা বিষয়টি গোপন রেখে আলু জমা রেখেছেন। তাদের আগেই জানানো হয়েছিল ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আলু উত্তোলনের জন্য। কিন্তু আলুর বাজারদর কম থাকায় তারা সময়মতো আলু উত্তোলন করেননি। তবুও বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি এবং পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করবো।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, “আলু নষ্টের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত দোষী চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
















