রাজারহাটে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি: কমছে তালগাছ, সংকুচিত হচ্ছে আবাসস্থল

একসময় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার গ্রামাঞ্চলের তাল, খেজুর ও নারিকেল গাছে ঝুলে থাকা বাবুই পাখির বাসা ছিল নিত্য দিনের চিত্র। ভোর বেলায় তাদের কিচিরমিচির শব্দে অনেকের ঘুম ভাঙত। কিন্তুু সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই বিরল। মাঠে -ঘাটে আগের মতো দেখা যায় না বাবুই পাখির ঝাঁক, নেই আগের মতো গাছে গাছে ঝুলে থাকা শৈল্পিক বাসা।
স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দশক আগেও রাজারহাটের বিভিন্ন গ্রামের তালগাছে অসংখ্য বাবুই পাখি বাসা বাঁধত। বর্তমানে তালগাছ কমে যাওয়ায় পাখিগুলো হারাচ্ছে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল। পরিবেশ
পরিবেশবীদরা বলছেন, তাল, খেজুর, নারিকেল ও সুপারি গাছ কমে যাওয়া বাবুই পাখির সংখ্যা কমার অন্যতম প্রধান কারণ।
বাবুই পাখি সাধারণত উঁচু তাল, খেজুর, নারিকেল ও সুপারি গাছে বাসা তৈরি করে। কিন্তু বসতবাড়ি নির্মাণ, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনে এসব গাছ কাটার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে বাসা তৈরির উপযুক্ত জায়গা না থাকায় কমে যাচ্ছে বাবুইয়ের বংশবিস্তার।
রাজারহাটের প্রবীণ বাসিন্দা মো.কাশেম আলী বলেন,আমার বাড়ির পাশে একটা বিশাল তালগাছ ছিল। বিকেল হলে বাবুই পাখির ডাক শোনা যেত। ভোরের আযান হওয়ার সাথে সাথে কিচিরমিচির শব্দ শোনা যেত।এখন তালগাছও নেই বাবুইয়ের কিচিরমিচির শব্দ নেই।
এবিষয়ে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজ্ সাইফুন্নাহার সাথী বলেন,কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে পোকামাকড়ের সংখ্যা কমছে। বাবুইসহ অনেক ছোট পাখি এসব পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। খাদ্যের উৎস কমে যাওয়ায় এই জাতীয় পাখি অনেকটাই চোখে পড়ছেনা।
অনেক সময় গাছ কাটার আগে পাখির বাসার বিষয়টি বিবেচনা করা হয় না। কোথাও কোথাও পাখির ডিম ও বাচ্চা নষ্ট করার ঘটনাও ঘটে। এসব কারণে ধীরে ধীরে নিরাপদ পরিবেশ হারাচ্ছে বাবুই পাখি।
তিনি আরও বলেন, বাবুই শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি কৃষি ও পরিবেশেরও বন্ধু। ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে এই পাখি। পাশাপাশি প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এবিষয়ে, রাজারহাট উপজেলার বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.সাদিকুর রহমান বলেন,বাবই পাখি উঁচু জায়গায় বাসস্থান তৈরি করে,এক্ষেত্রে তাল,নারিকেল, সুপারিসহ উঁচু গাছগুলো বেঁচে নেয় তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে বনায়নের মাধ্যমে বাবুইপাখি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।

























