কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে হারাতে বসছে পরিবেশের উপকারি পাখি শালিকের কিচিরমিচির

ভোরের আলো ফুটতেই রাজারহাট উপজেলার বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত, ভুট্টাক্ষেত ও সবজি বাগানে দেখা মিলতো কালো শালিকের ঝাক (গবরি শারো)। কৃষক যখন জমি চাষ করেন কিংবা কাদা করেন, তখন মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসা বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়, লার্ভা ও কেঁচো খুঁজে খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পাখিগুলো। কৃষকদের মতে, ক্ষতিকর পোকা দমনে এই দেশীয় পাখির অবদান অনেক হলেও তা নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে জমিতে লাঙল চালানোর সময় কিংবা সেচের পর কালো শালিকের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা যেতো। তারা ধানের ক্ষতিকর পোকা, ঘাসফড়িং, শুঁয়োপোকা, গুবরে পোকা, উইপোকা ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করত। এতে অনেক ক্ষেত্রেই রাসায়নিক কীটনাশকের প্রয়োজনও কিছুটা কমে যেতো

রাজারহাটের কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন, “আগে মাঠে অনেক বেশি শালিক পাখি দেখা যেত। এখন গাছপালা কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে আগের তুলনায় সংখ্যা কমে গেছে। অথচ এই পাখিগুলো কৃষকেরই উপকার করে।”

পরিবেশবীদ ড.তুহিন ওয়াদুদ জানান, কালো শালিক শুধু পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণই করে না; বিভিন্ন ফল খেয়ে বীজ ছড়িয়ে দিয়ে নতুন গাছ জন্মাতেও ভূমিকা রাখে। খাদ্যশৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তারা জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে গাছ কাটা, জলাভূমি ভরাট, অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার এবং পাখি শিকার—এসব কারণে শালিকসহ অনেক দেশীয় পাখির সংখ্যা কমছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে কৃষিতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন মিজ্ তানজিলা তাসনিম বলেন,সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) অনুসরণ, অপ্রয়োজনীয় কীটনাশকের ব্যবহার কমানো, গ্রামাঞ্চলে দেশীয় গাছ সংরক্ষণ এবং পাখি শিকার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এতে একদিকে পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে কৃষকও লাভবান হবেন।