‘মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানের তিন ট্রফিই বিএনপির ঘরে’

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সমস্যা, ভাবনা ও প্রস্তাব সরাসরি শুনতে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ১৬১ জন নির্বাচিত শিক্ষকের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সভায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

শিক্ষকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিজ হাতে নোট করেন প্রতিমন্ত্রী। নির্বাচিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে জাইমার ছবি সংবলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের সব পেশার ভিত্তি তৈরিতে শিক্ষকদের ভূমিকা থাকলেও শিক্ষকরা দীর্ঘদিন অবহেলিত। শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্বাধীনতার ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। বিএনপির রাজনৈতিক অর্জন তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকা রয়েছে।

‘দেশের তিন ঐতিহাসিক অর্জনের তিনটি ট্রফিই বিএনপির ঘরে’—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপিকে পতনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষকদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নয়, সমাজের অনিয়ম, অসংগতি ও অপরিচ্ছন্নতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতেও শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানবিক, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সিমান্ত, যুবদল সভাপতি খালিদ হাসান আরমান, শিক্ষাবিদ নজরুল ইসলামসহ ১৬১ জন নির্বাচিত শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।