রংপুরের পীরগঞ্জ স্কুলের যাতায়াতের রাস্তায় ময়লা আবর্জনার স্তূপ, অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ভেন্ডাবাড়ী ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে যাতায়াতের রাস্তায় ময়লা আবর্জনার স্তূপ। প্রত্যহ দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী ওই ময়লা আবর্জনার স্তূপ ডিঙ্গিয়ে তারা প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এতে যেমন পরিবেশ দুষিত হচ্ছে তেমনি বাড়ছে মারাত্নক স্বাস্থ্যঝুঁকিও। ব্যহত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ কার্যক্রম। শুধু তাই নয়, ভেন্ডাবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় একটি এলাকার সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রও। আসছে ২১ এপ্রিল তারিখে এসএসসি পরীক্ষায় ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে ভেন্ডাবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে।
ভেন্ডাবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২শত ৭৭ জন ও ২নং ভেন্ডাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১শত ২৬ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করেন। এই দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটির পাশে ময়লা আবর্জনার স্তুপ। ঐতিহ্যবাহী ভেন্ডাবাড়ী হাটের বিভিন্ন হোটেল রেঁস্তোরা, কনফেকশনারী ও দোকানিরা ময়লা-আবর্জনা গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে ফেলার কারণে এমন স্তুপ হয়েছে।
ময়লার স্তূপ থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়ায়, যার ফলে শিক্ষার্থীরা নাক চেপে বা মাস্ক পরে যাতায়াত করতে বাধ্য হয়। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বমি ভাব, মাথাব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া বিদ্যালয়ের আশেপাশে নোংরা পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বিঘ্নিত করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কথা হয় ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সিরাজুম মনিরা, ফাতেমা ইয়াছমিন ও কুমারী অন্তরা রাণীর সঙ্গে। তারা জানায়, প্রতিদিন এসব ময়লা-আবর্জনার পরিমাণ বাড়ছে। স্কুলে যেতে হলে নাক চেপে যেতে হয়। এত দুর্গন্ধ, বলার বাইরে। আমরা দ্রুত এ স্থান থেকে বর্জ্য অপসারণের দাবি জানাই।
৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুশরাত খাতুন ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী লিজা খাতুন জানায়, দুর্গন্ধের কারণে অনেক কষ্ট করে আমরা যাতায়াত করি। বিকল্প কোনো রাস্তাও নেই। বাধ্য হয়েই ময়লা-আবর্জনার স্তুপের পাশ দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানি জানান, আশেপাশে কোথাও ময়লা- আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই বা ডাস্টবিনও নেই। এ কারণে বাধ্য হয়েই এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হয়। তবে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হলে সেখানে আর কেউ ময়লা ফেলবে না।
এ বিষয়ে ভেন্ডাবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এসব ময়লার দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। আশেপাশের দোকানিরা এসব ময়লা ফেলে রাখে। এখানে ময়লা না ফেলতে তাদের অনেকবার বলা হয়েছে, তারপরও তারা শুনে না। রাস্তাটি সীমানা প্রাচীর দ্বারা ঘেরা থাকলে পরিত্রাণ পাওয়া যেত। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুন বলেন, ‘সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

















