শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে খুলনায় এইচএসসি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে খুলনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এইচএসসি-২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করে তীব্র প্রতিবাদ জানান, ফলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) দুপুর ৩টার পর নগরীর ব্যস্ততম শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা শিববাড়ি মোড়ে সড়ক অবরোধ করলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে দেখা যায়। অনেকেই বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হন।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের জীবনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধনের অভিযোগকে তারা চরম অপমানজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই এবং শিক্ষামন্ত্রীর অবমাননাকর মন্তব্যের জবাব চাই।”

তারা আরও দাবি করেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের সম্মান রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাতুল, শিহাব, তুলনা, ঐশী ও জুয়েলসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সোনাডাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।”

শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচির ফলে কিছু সময়ের জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।