আন্তর্জাতিক বিচার সম্মেলন
১৬ বছরের নির্যাতন-নিপীড়ন গুম-খুনের চিত্র তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ১৬ বছর ধরে এদেশের জনগণের ওপর চালানো নির্যাতন-নিপীড়ন, গুম-খুনের চিত্র আন্তর্জাতিক বিচার সম্মেলনে তুলে ধরেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেছেন, ‘রোহিঙ্গার মতো বৈশ্বিক বোঝা বাংলাদেশ একা বহন করতে পারে না। বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব ও উদ্যোগের মাধ্যমে মিয়ানমারকেই এই সংকটের সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।’
পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের কুফলকে নতুন বৈশ্বিক সংকট উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী এই সংকট সমাধানে উন্নত দেশগুলোকে আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্মেলনে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুদিন ব্যাপী (৮ ও ৯ অক্টোবর) এই ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিট-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের ৭৫টি দেশের বিচারমন্ত্রী, বিচারক, আইনবিদ ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অংশ নিয়েছেন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।
১৬ বছরের নির্যাতন-নিপীড়ন গুম-খুনের চিত্র
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের নির্যাতন-নিপীড়নের বিষয়ে আইন মন্ত্রী সম্মেলনে বলেছেন, ‘গত ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার অধীনে আমাদের জনগণ ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বী বিচারবহির্ভূত অভিযানে নিহত হয়েছেন, ৭০০-এর বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন।
এরপর ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৩৬ দিনে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই ছিলেন শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা কর্মসংস্থান এবং বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাদের কণ্ঠ তুলে ধরেছিলেন।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের তথ্য-অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব হতাহত সম্পর্কে তথ্য উঠে এসেছে। আমাদের জনগণ ভয়কে নয়, স্বাধীনতাকে বেছে নিয়েছে। সেই গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসনের পুরো কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং শাসকগোষ্ঠী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করে। তারা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে একটি গুরুদায়িত্ব দিয়েছে—দেশকে নিরাময় করা, সংস্কার করা, অপরাধের বিচার করা এবং আইন ও ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। ন্যায়বিচারের সেই গণরায়কে বাস্তব আইনি পদক্ষেপে রূপ দেওয়া হয়েছে।’
‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ব্যাপক ও পদ্ধতিগত গুমকে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসব অপরাধের বিচার একমাত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হচ্ছে এবং এর জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত সংস্থা ও একটি পৃথক প্রসিকিউশন টিম কাজ করছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে পূর্ববর্তী শাসনামলে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৮টি মামলার বিচার পরিচালনা করছে। আরও ১০টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। একদিকে আমরা দায়মুক্তির অবসান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়সঙ্গত ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
রোহিঙ্গার মতো বৈশ্বিক বোঝা বাংলাদেশ একাবহন করতে পারে না
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এমন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেগুলো আমাদের সৃষ্টি নয়। বাংলাদেশ প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি ছোট দেশ। যেখানে ১৭ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। অথচ মানবিক মর্যাদার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার থেকে আমরা মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা ১২ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। এটি শুধু একটি মানবিক সংকট নয়। এর ফলে বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।’
‘বাংলাদেশ একা এই বৈশ্বিক বোঝা বহন করতে পারে না এবং তার কাছ থেকে তা প্রত্যাশা করাও উচিত নয়। এই সংকটের শুরু থেকেই তুরস্কের সংহতির জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে কক্সবাজারে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ানের সফর এবং সংকট সমাধানে তুরস্কের অব্যাহত কূটনৈতিক তৎপরতা আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। তবে এখন সংহতিকে টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারের কর্মকাণ্ডের ফলে হয়েছে। বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব ও উদ্যোগের মাধ্যমে মিয়ানমারকেই এই সংকটের সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মর্যাদা, নাগরিকত্বের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করেই এই সংকটের সমাধান করতে হবে।’
আমরা এখন একটি নতুন বৈশ্বিক সংকটেরও মুখোমুখি
তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের কুফল তুলে ধরে আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমরা এখন একটি নতুন বৈশ্বিক সংকটেরও মুখোমুখি। নিঃসন্দেহে প্রযুক্তি বিশ্বকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং সেবা প্রদানের দক্ষতা বাড়িয়েছে। একই সময়ে এটি নতুন ধরনের বৈষম্য ও বিভাজনও সৃষ্টি করেছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এখন সীমান্তের বাইরে জনমত, তথ্যপ্রবাহ এমনকি সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব বিস্তার করছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রায়ই এর গুরুতর পরিণতি বহন করে, কারণ বৈশ্বিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো ক্ষমতা ও সুযোগ তাদের সীমিত। ভুয়া তথ্য আমাদের রাজপথে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে; বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে; সাইবার অপরাধ আমাদের জনগণের ক্ষতি করছে; আর অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত নীরবে আমাদের বাস্তবতাকেই বদলে দিচ্ছে। এসবের কোনোটিই রাষ্ট্রীয় সীমানাকে সম্মান করে না। এসব অপরাধের জন্য কোনো ভিসারও প্রয়োজন হয় না।’
আইনমন্ত্রী বলেন,‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণভাবে এ বিষয়ে দৃঢ় আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা সম্প্রতি সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি ক্ষতিকর কনটেন্ট, বিভাজনমূলক অপতথ্য ও প্রচারণা মোকাবিলায় আইনটি আরও সংশোধন করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে নাগরিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যাতে পূর্ণাঙ্গভাবে সুরক্ষিত থাকে, তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
‘জাতীয় আইনের একটি স্বাভাবিক ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঢাকায় প্রণীত কোনো আইন এককভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না কিংবা সীমান্ত অতিক্রম করে সংঘটিত ডিজিটাল অপরাধের পুরো নেটওয়ার্ক অনুসরণ করতে পারে না। এর সমাধান বিচ্ছিন্ন বা খণ্ডিত কোনো উদ্যোগ নয়। সমাধান হলো সম্মিলিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ—যে দৃষ্টিভঙ্গির শক্তিশালী প্রতিফলন আমরা ২০২৪ সালের জাতিসংঘের সাইবার অপরাধবিষয়ক কনভেনশনে দেখতে পাই। ’
এক্ষেত্রে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিচারক, প্রসিকিউটর ও আইনজীবীদের দ্রুত পরিবর্তনশীল এসব অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে হবে। তবে অনেক উন্নয়নশীল দেশ কারিগরি দক্ষতা ও ডিজিটাল অবকাঠামোর ক্ষেত্রে কাঠামোগত ঘাটতির মুখোমুখি। এখানেই উন্নত দেশগুলোর উচিত আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে আসা—প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, ফরেনসিক জ্ঞান এবং আইন ও বিচারবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রকৃত অর্থে হস্তান্তরের মাধ্যমে। প্রযুক্তির প্রভাব যেহেতু বৈশ্বিক, তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও বৈশ্বিক হতে হবে।’
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও শক্তিশালী সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আরও শক্তিশালী সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী সম্মেলনে বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ, সীমান্ত নির্ধারণ, জ্বালানি বাজার, মেধাস্বত্ব এবং চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের মতো বিষয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি হিসেবে আন্তর্জাতিক সালিশি ব্যবস্থা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মৌলিক নীতি। বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে আইসিএসআইডি (ICSID), পিসিএ (PCA) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামের মতো ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেছে।’
‘আমরা বর্তমানে কমার্শিয়াল কোর্ট অ্যাক্ট, ২০২৬ সংশোধন করছি। এর মাধ্যমে সাবেক প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আদালত এবং একটি আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর লক্ষ্য হবে সময়সীমাবদ্ধ বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও শক্তিশালী সুরক্ষা নিশ্চিত করা। নতুন আইনটি বিনিয়োগকারীদের অনুপযুক্ত ফৌজদারি মামলা, কাস্টমস ও কর-সংক্রান্ত হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেবে। একই সঙ্গে মুনাফা বণ্টন এবং বিনিয়োগকৃত মূলধন ও লভ্যাংশ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকারও সুরক্ষিত করবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ইস্তাম্বুল সালিশি কেন্দ্র বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে সালিশি ব্যবস্থা অবশ্যই সবার নাগালের মধ্যে থাকতে হবে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াগত ব্যয় ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য। তাই ব্যয় হতে হবে আনুপাতিক, স্বচ্ছ এবং রাষ্ট্র ও বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্য ন্যায়সঙ্গত। ন্যায়বিচারের এমন কোনো মূল্য নির্ধারণ করা উচিত নয়, যা কেবল ক্ষমতাবানরাই বহন করতে পারে।’
অপূরণীয় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে বিশ্ব আজ ক্লান্ত
সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র কয়েক দিন আগেই আমাদের অনেকেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলাম। আবারও আমরা দেখেছি অসংখ্য বক্তব্য, মহৎ ঘোষণা এবং সীমাহীন প্রত্যাশা। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর কালি শুকিয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববাসীর প্রশ্ন থেকে যায়—সেগুলো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ কোথায়? আমরা বৈশ্বিক পরিবারের ধারণাটিকে কতটা সত্যিকার অর্থে নিজেদের বলে মনে করি? সর্বজনীন ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কতটা আন্তরিক, যখন কোটি কোটি মানুষ নীরবে দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হচ্ছে? অপূরণীয় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে বিশ্ব আজ ক্লান্ত।’
‘বড় বড় ঘোষণা বাস্তুচ্যুত মানুষের মাথার ওপর আশ্রয় তৈরি করবে না, নিয়ন্ত্রণহীন ডিজিটাল একচেটিয়া ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করবে না, কিংবা নিপীড়নের ক্ষত সারিয়ে তুলবে না ‘ মন্ত্রী বলেন, বিমূর্ত আকাঙ্ক্ষার সময় এখন শেষ। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। এখন কাজ করার সময়। আমাদের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে এবং এমন একটি কার্যকর বৈশ্বিক দায়িত্ব-বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যার মাধ্যমে এমন সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে—যেগুলো কোনো একক দেশের পক্ষে একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।’
সম্মেলনে তুরস্কের আইনমন্ত্রী আকুন গুরলেক, সিরিয়া, জর্জিয়া ও মোজাম্বিকের আইনমন্ত্রীবৃন্দ; ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের বিচারক অধ্যাপক ড. সাদেত ইউকসেলসহ বিভিন্ন দেশের আইনজ্ঞ, আইন ও বিচারবিষয়ক গবেষক, পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।






























