যশোরে শীতের আমেজেও বাজার দরে অস্বস্তি

শীতের আগমনী হাওয়া বইছে মাঠে মাঠে, সবুজে ঢেকে গেছে যশোরের গ্রামাঞ্চল। মৌসুমি সবজির ছড়াছড়িতে বাজার ভরপুর থাকার কথা—কিন্তু বাস্তবে সম্পূর্ণ উল্টো। শীতের প্রাচুর্যের মৌসুমেও সবজি, মাছ, মসলা থেকে শুরু করে চাল–ডালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাজারের এ অস্থিরতায় ভোক্তাদের নাভিশ্বাস চরমে পৌঁছেছে।
গত শুক্রবার (২০ নভেম্বর) যশোরের বড়বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়,সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। ফলে আগের দুই সপ্তাহে কিছুটা কমেছিল যে দাম, তা আবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি।
পাইকারি সবজি বিক্রেতা আবদুল লতিফ বলেন, “আগাম শীতকালীন সবজি কিছুদিন বাজারে স্বস্তি তৈরি করেছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দামের লাগাম টেনে রাখা যাচ্ছে না।পাতাকপি ৫০, ফুলকপি ৭০, শিম ১০০, বেগুন ১০০, টমেটো ১৪০, মুলা ৩০, ধনেপাতা ৩০০, কচু ৫০, ঢেঁড়শ ৬০, কচুরমুখী ৪০ টাকা কেজি।
লাউ ৩০–৪০, পালং শাক আঁটি ২৫, লালশাক ১৫ টাকা এবং লেবু হালি ২০ টাকা।পেঁয়াজ ১৩০ টাকা ও রসুন ১৪০–২০০ টাকা—যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য আরও বড় চাপ।
মাছের বাজারেও একই চিত্র।পাবদা ৩৮০, শিং ৪৪০, পাঙাশ ১৮০, রুই ২৬০–৩৭০, সিলভার কার্প ১৬০–২০০, তেলাপিয়া ১৭০ টাকা। ছোট চিংড়ি ৬০০ এবং বড় চিংড়ি ৮০০–১০০০ টাকা—যা মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
মুরগি ও মাংসের বাজারও অস্থির। কক মুরগি ২৫০, সোনালি ২৮০, ব্রয়লার ১৮০–২০০, গরুর মাংস ৭৫০ এবং খাসির মাংস ১,২০০ টাকা কেজি।চালের বাজারেও বাড়তি চাপ।
মিনিকেট ৮০–৯০, বাংলামতি ৮০, চিনিগুঁড়া ১৫০, নাজিরশাইল ১৪০ টাকা। ডালের বাজারেও একই চিত্র—দেশি মসুর ১২২–১২৫ এবং আমদানি করা মসুর ১২৫–১৩০ টাকা।
বাজারে এসেছেন এমন ক্রেতারা বলছেন—একসঙ্গে সব কিছুর দাম বাড়ায় সংসারের হিসাব মেলানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলমের কণ্ঠে হতাশা
“শীতের শুরুতেই তো সবজি বাজারে স্বস্তি ফেরার কথা, কিন্তু এ বছর কোনও পণ্যের দামই হাতের নাগালে নেই।আরেক ক্রেতা রিয়াজ হোসেনের অভিযোগ,ব্যবসায়ীদের মনোপলি আর অতিরিক্ত মুনাফার চাপ সরাসরি ভোক্তাদের ওপর পড়ছে। নিয়মিত নজরদারি ছাড়া বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে না।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন জানান,শীতকালীন সবজিতে কৃষক ভালো দাম পাচ্ছেন এটা কৃষির জন্য ইতিবাচক। তবে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কৃষি বিপণন বিভাগ নিয়মিত মনিটরিং করছে।”

























