খুলনায় ধানের শীষে জনগণের রায় নিশ্চিত: আজিজুল বারী হেলাল

প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা জোরালো রূপ পেয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষে খুলনায় চূড়ান্তভাবে ৩৮ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে নেমেছেন।

এর মধ্যে সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতীক পাওয়ার পরপরই প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও সভা-সমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনে এবারের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুলনামূলকভাবে বেশি। এ আসনে চারজন প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। তারা হলেন—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইউনুস আহমেদ শেখ, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস কে আজিজুল বারী হেলাল, খেলাফত মজলিসের এস এম সাখাওয়াত হোসাইন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আজমল হোসেন।

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় রূপসার সেনের বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ ও পথসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল।

এ সময় তিনি বলেন, গত এক মাসে সারা দেশে ধানের শীষের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এটা স্পষ্ট—জনগণ তাদের আগামী দিনের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকেই বেছে নিতে প্রস্তুত। এই জনসমর্থন কোনো কৃত্রিম প্রচারণা নয়, এটি মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন।

নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, আমরা বিজয়ী হলে ইনশাআল্লাহ খুলনা-৪ আসনকে একটি আদর্শ, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত মডেল এলাকায় রূপান্তর করা হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে। সবচেয়ে বড় সুখবর হলো—ভৈরব নদীর ওপর একটি দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ করা হবে, যা এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

নির্বাচনী পরিবেশ ও রাজনৈতিক সহাবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ আমাদের রাজনীতির পুরনো চর্চা। তবে খুলনায় আমরা সবাই সম্প্রীতির সঙ্গেই নির্বাচন করছি। সবাই যদি আচরণবিধি মেনে চলে, তাহলে এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত হবে।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে বিরোধী মতামতের বিষয়ে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ভোটের মাঠে পরিবেশ নেই কিংবা সমতা নেই—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ অমূলক। রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়াসহ পুরো খুলনার মানুষ একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কিছু দল নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যারা অভ্যুত্থানের শক্তি, আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। গণতন্ত্র রক্ষা ও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আগামী ১২ তারিখে ভোটকেন্দ্রে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়ে জনগণ যেন যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেয়—এই আহ্বান জানাই।

গত ১৭ বছরের ভোটাধিকার হরণের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, দীর্ঘ সময় মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। এবার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই পরিবেশে জনগণ নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে—এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা মাঠে আছি।

প্রতীক বরাদ্দের পর খুলনা-৪ আসনে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের লড়াই নয়, বরং গণতন্ত্র, অংশগ্রহণ ও জনগণের আস্থারও একটি বড় পরীক্ষা।