সাতক্ষীরায় সংসারের দায় কাঁধে শেষ হলো এক হতভাগ্য বাবার পথচলা

ভোরের আলো তখন পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। ঘুমজড়ানো চোখে ছোট ছেলে প্রদীপ্ত হয়তো তখনও বুঝতে পারেনি সেদিনই শেষবারের মতো বাবাকে কাজে যেতে দেখছে। কাঁধে দা, মনে সংসারের চিন্তা এই ছিল বিপ¬ব ঘোষের প্রতিদিনের সকাল। কিন্তু সেই সকালই কাল হয়ে এলো।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দমধুসূদনপুর গ্রামে আমগাছের ডাল কাটতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে নিহত হয়েছেন কাঠকাটা শ্রমিক বিপ্লব ঘোষ (৩৬)। তিনি দুলাল ঘোষের ছেলে। একটি সজ্জন, পরিশ্রমী পরিবারের সন্তানের অকালপ্রয়াণে এখন পুরো গ্রাম স্তব্ধ।
সমাজকর্মী তাপস ঘোষের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে, বিপ¬ব খুব মেধাবী ছিল। স্কুলে ভালো ফল করত। কিন্তু অভাবের কারণে মাধ্যমিকের পর আর তার শিক্ষা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি কারো পক্ষে। সংসার টানতেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বেছে নেয়। নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলত না। শুধু বলত ছেলেদের মানুষের মতো মানুষ করবে।
বড় ছেলে সুদীপ্ত (১৬) একাদশ শ্রেণীতে পড়ে। ছোট ছেলে প্রদীপ্ত (৮) তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। স্ত্রী চম্পা ঘোষ (৩০) এখন স্বামীর নিথর দেহের পাশে নির্বাক। ঘরের চালা ফুঁড়ে যেন হাহাকার বেরিয়ে আসছে কীভাবে চলবে তাদের দিন?
ভাই বিকাশ ঘোষ জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমগাছের বড় ডাল কাটছিল। হঠাৎ ডাল ভেঙে পড়ে। ভাই আগে মাটিতে পড়ে যায়, তারপর বিশাল ডালটা শরীরের ওপর পড়ে। সেখানে উপস্থিত সবাই তাকে দৌড়ে গিয়ে উদ্ধার করে। কিন্তু পল্লীচিকিৎসক জানিয়ে দেন সব শেষ।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জুয়েল হোসেন জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিষ্ণুপর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের বলেন, একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি আর নেই। যে বাবা ছেলেদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন, সেই স্বপ্ন এখন শূন্যে ঝুলে আছে। অভাবের কাছে হার মানা এক মেধাবী জীবনের এই করুণ পরিণতি যেন শুধু একটি দুর্ঘটনা নয় এটি একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ ভেঙে পড়ার গল্প। এখন প্রশ্ন একটাই এই অসহায় পরিবারটির পাশে কি কেউ দাঁড়াবে?





























