নওগাঁর পত্নীতলায় মসজিদের নামে মালিকানা জায়গা দখলের পায়তারার অভিযোগ

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার শিহাড়া ইউনিয়নের আলপাকা গ্রামে বায়তুর রহমান জামে মসজিদের জায়গা বৃদ্ধির নামে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জায়গা দখলের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একইসাথে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও জানান তাঁরা।

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের পিছনে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিনের লাগানো বেশ কিছু আম গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বাড়ির আঙিনার একপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এমনকি পরিবারের পানি নিষ্কাশনের ড্রেনটিও মাটি দিয়ে ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে পরিবারটি চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

​স্থানীয় বাসিন্দা তামসউদ্দিন, সমের ইসলাম সহ অনেকেই জানান, মসজিদের জায়গা বাড়ানোর অজুহাতে জায়গা দখলের এই চেষ্টা চলছে। মালিকানা জমি বেড়া দিয়ে ঘেরার পরে সুকৌশলে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে একটি সাজানো নাটক তৈরি করা হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আমরা এলাকার বাসিন্দারা বিএনপি নেতাদের মসজিদের এই ঝামেলাটা সমাধান করে দেওয়ার জন্য ডাকি। বিষয়টি সমাধান না করেই মসজিদ কমিটির কয়েকজন নিজেরাই তালা মেরে এর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ওপর।

​তারা আরও জানান, শিহাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নওশাদ আলী বিশ্বাস, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান সেরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিএনপি নেতাদের ওপর দোষ চাপিয়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।

ভুক্তভোগী আতাউর রহমান বলেন, যুদ্ধের পরে দীর্ঘকাল মালিকানা এই জায়গা ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করেই মসজিদ কমিটি স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত সমর্থক ব্যক্তির সহযোগিতায় আমার জায়গা দখলের জন্য গাছ কেটে বেড়া দিয়েছে। আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দিয়েও এটার সমাধান করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা আমার কোন কথায় শুনতেছে না। মসজিদের জায়গার প্রয়োজন হলে আমি অবশ্যই দিবো। কিন্তু তারা আমার চারিপাশে সবকিছু ঘিরে নিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও জানমালের নিরাপত্তা দাবি করছি।

​এই বিষয়ে অভিযুক্ত মসজিদ কমিটির সদস্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকায় বর্তমানে এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কারো ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধার বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে ফাঁসানো কাম্য নয়।