২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত, মজুদ প্রায় ২ লাখ টন

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বর্তমান অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে—দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটসের মাধ্যমে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপর এক প্রস্তাবের ভিত্তিতে এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকের (ইএমকেআই) কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে ১ লাখ মেট্রিক টন EN590-10 PPM সালফার মানমাত্রার ডিজেল।ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরেক প্রস্তাবের ভিত্তিতে জিটুজি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান পি.টি. বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন), ইন্দোনেশিয়া থেকে চুক্তির আওতায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস অয়েল ০.৫ শতাংশ ‘এস’ (ডিজেল) ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন

দেশে বর্তমানে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে মজুতকৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেল রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন।

বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে মজুদথাকা এই জ্বালানি তেল দিয়ে আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিন পর্যন্ত দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সময়ের মধ্যেই বেশ কয়েকটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফলে আপাতত দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

অপরদিকে জ্বালানি তেলে মজুতদারী রোধে ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে গত ৩ মার্চ থেকে ৩ হাজার ৫৫৯টি অভিযান পরিচালনা করেছে মন্ত্রণালয়। অভিযানে ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬৫ লিটার ডিজেল, ২৮ হাজার ৯৩৮ লিটার অকটেন ও ৬০ হাজার ২ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচালিত অভিযানে দায়ের করা ১২৪৪টি মামলায় মোট ৮৪ লাখ ৫১ হার হাজার জরিমানা করা হয়েছে।