নাহিদকে বাংলাদেশের নেতা ঘোষণা হাসনাতের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে বাংলাদেশের নেতা বলে আখ্যা দিয়েছেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখপাত্র ও কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন, ‘আমার নেতা, আমাদের নেতা, বাংলাদেশের নেতা নাহিদ ইসলাম।’
ওই পোস্ট দেওয়ার পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। এর কয়েক ঘণ্টা পর সংসদে নাহিদের দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করে একই ক্যাপশন লেখেন হাসনাত।
উল্লেখ্য, ওই ভিডিওতে দেখা যায় সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন নাহিদ ইসলাম। ৩৩ মিনিটের সেই ভিডিও এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে এবং দুই লাখের বেশি লাইক পড়েছে।
বিএনপির ওপর আর আস্থা রাখতে পারছি না : নাহিদ ইসলাম
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপির ওপর আর আস্থা রাখতে পারছেন না। আর্থিক খাতে অনিয়ম, গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক নিয়োগ এবং নীতিগত অবস্থানে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্যের জবাবে নাহিদ ইসলাম আর্থিক খাতের নানা দুর্বলতার প্রসঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি শাসনামলে আর্থিক খাতে কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল না, এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, গভর্নর হিসেবে এমন একজনকে বসানো হয়েছে, যিনি ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে অভিজ্ঞ, যা বড় অঙ্কের ঋণ পুনর্বিন্যাসকে সহজ করেছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশই ঋণগ্রহীতা, যাদের মধ্যে অনেকেই ঋণখেলাপি ছিলেন। নির্বাচনের আগে কিছু অর্থ পরিশোধ করে তারা ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন। তার মতে, এই প্রক্রিয়া আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে এবং অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যেভাবে আর্থিক খাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তাতে তাদের ওপর আর আস্থা রাখতে পারছি না।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
সবশেষে তিনি আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যাতে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৫ মিনিট সময় চাইলেন নাহিদ ইসলাম
জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় বাড়ানো নিয়ে কিছুটা হাস্যরসের সৃষ্টি হয়, যখন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেও অতিরিক্ত ৫ মিনিট সময় চান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যের নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত সময় চান সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।
বক্তব্য চলাকালে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম ইতোমধ্যে তার নির্ধারিত ২০ মিনিট সময় থেকে ৫ মিনিট নাহিদ ইসলামকে দিয়েছেন।
এরপর নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আমি আশা করব, প্রধানমন্ত্রীও তার সময় থেকে আমাকে আরও ৫ মিনিট দেবেন। না দিলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বক্তব্য শেষ করার চেষ্টা করব।’
তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা না এলেও পরবর্তী প্রায় ১০ মিনিট নাহিদ ইসলামকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এতে ধারণা করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তার সময় থেকে অতিরিক্ত সময় দিয়েছেন, যদিও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি আরও দুই মিনিট সময় চান। এ সময় ডেপুটি স্পিকার তার অনুরোধ মঞ্জুর করেন।
বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, শাহবাগ থানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন সদস্যকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মারধর করলেও এখনো কোনো মামলা নেওয়া হয়নি। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন।
এ ছাড়া তিনি জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেন এবং বলেন, জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনায় অতীতের মতো পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত নয়। পাশাপাশি কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিও জানান তিনি।






























