খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় তৈলাফাং ঝর্ণা শান্তি-শৃংখলা বিঘ্ন ঘটানাের আশংকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা মাটিরাঙ্গা উপজেলায় তৈলাফাং ঝর্ণা শান্তি-শৃংখলা বিঘœ ঘটনার আশংকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে এলাকাবাসীরা। গত শনিবার (৬ই জুন) জেলাধীন মাটিরাঙ্গা উপজেলার বড়নাল ইউনিয়নের তৈলাফাং তোয়ারি মাইরাং ঝর্ণা এলাকার হেডম্যান, যুব ও ছাত্র সমাজ কর্তৃক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, সা¤প্রতিক সময়ে ঝর্ণা ভ্রমণের নামে অনেক পর্যটক উক্ত স্থানে গিয়ে প্লাস্টিকের ময়লা-আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে দেন। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যক্তি সেখানে মাদক সেবন ও মদ্যপানের মতো স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিভিন্ন নেশাদ্রব্য সেবনে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।
যার কারণে একদিকে সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ দিন দিন বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে অন্যদিকে এলাকার পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্র মোতাবেক আরো জানা যায়, উক্ত ঝর্ণার আশেপাশে মোট ৯টি গ্রাম রয়েছে। ঐ গ্রামগুলো কোনো না কোনো ভাবে ঝর্ণার বিশুদ্ধ পানি এবং উক্ত পানি প্রবাহিত ছড়ার উপর র্নিরশীল।
ইদানিং অতিমাত্রায় পর্যটকদের কর্তৃক উচ্চস্বরে গান বাজনা ও চিৎকার সেই সাথে প্লাস্টিকের মতো পরিবেশের ক্ষতিকারক দ্রব্যাধি অতিমাত্রায় যেখানে সেখানে ফেলে দিচ্ছে।
যার ফলে এই পরিস্থিতিতে ঝর্ণার প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, সৌন্দর্য রক্ষা এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তে তৈলাফাং ঝর্ণা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, এর আগেও গতকাল ৫ই জুন ২০২৬ রাঙ্গামাটি জেলাধীন কাপ্তাই উপজেলার উত্তর দেবতাছড়ি গ্রামের প্রামবাসীরা সামাজিক মাধ্যমে উত্তর দেবতাছড়ি গ্রামে সকল প্রকার পর্যটকদের বেপরোয়া যাতায়াত, অসংলগ্ন আচরণ ও বিরক্তিকর কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের গ্রামে পর্যটকদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
আরো উল্লেখ্য, ১৯৯৭সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক চুক্তির ‘খ’ খন্ডের ৩৪নং ধারায় পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্য ও দায়িত্বাদির স্থানীয় পর্যটনের পাশাপাশি ১১টি বিষয়/দপ্তর আংশিক বাস্তবায়িত হওয়ার কারণে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী যথাযথ হস্তান্তরিত না করার কারণে পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা সংকুচিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাস্তবায়ন না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানীয় পর্যটনের নিয়ন্ত্রণ না থাকার ফলে বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় এই ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে।
খাগড়াছড়ি পর্যটন পুলিশে নাম প্রকাশের অনিছুক এক কর্মকর্তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা কথা স্বীকার করে বলেন, জেলা প্রশাসক ও পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রশাসনিক টানা পড়নে পর্যটন খাত বিপুল সম্ভাবনা আয়ের উৎস থেকে হাজার কোটি টাকার পরিমানে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
টুরিষ্টরা সুনিদির্ষ্ট কোন সমস্যার ৯৯৯নম্বরে যে কোন অভিযোগ আসার সাথে সাথে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহনে প্রস্তুত করা হয়ে থাকে।






















