খাগড়াছড়িতে দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী পদে পুনঃবহাল করার দাবীতে মানববন্ধন

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে সদ্য পদত্যাগকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান’কে মন্ত্রী পদে পুনঃবহাল করার দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার(৭ই জুন) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সমানে সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ খাগড়াছড়ি জেলা ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে চাইথোয়াই মারমা’র সভাপতিত্তে¡ বক্তব্য রাখেন, সমাজসেবক ধীমান খীসা, ডা. আশুতোষ চাকমা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী চৌধুরী মোহাম্মদ বেলাল, সাধারণ শিক্ষার্থী মংনুচিং মারমা, প্রজ্ঞা জ্যোতি চাকমা, শিক্ষাবিদ নবকুমার চাকমা, নারী নেত্রী নমিতা চাকমাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা, পার্বত্য চট্টগ্রামে ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী পাহাড়ি বাঙালির আস্তা ভাজন, পাহাড়ের অবিসংবাদিত নেতা সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান’কে মন্ত্রী পদে পুনঃবহাল করার দাবী জানান। যিনি পাহাড়ের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় যিনি অবিচল ও সৎ ব্যক্তি ছিলেন।
যিনি সম্মানিত আইন পেশা সিনিয়র জর্জ সরকারি পদধারী ছেড়ে সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা চাকুরী ছেড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল বিএনপিতে যোগদান করেন। সেই ব্যক্তি কখনো দলের জন্য নিঃস্বার্থ নিবেদিত প্রাণ। তিনি দু:সময়েও দল ছাড়েন নি।
তাকে বাধ্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। একইসাথে সাবেক পার্বত্য মন্ত্রীকে তার পদে পুনঃবহাল করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে রূপ নেবে জানান বক্তারা।
মানববন্ধন শেষে প্রধান মন্ত্রী বরাবর খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে গিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় জেলার সুশীল সমাজ, নের্তৃবু›দ্ধ, গন্যমান্য ব্যক্তি, বর্গরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে পার্বত্য জেলার রাঙামাটি ২৯৯নং আসনে সংসদ সদস্য, পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগে জেলাতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ করায় তার নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করছে।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে পড়ে রাঙামাটি শহর। গত সোমবার (০১লা জুন) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে জেলা শহরের কাঠালতলীস্থ বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
এসময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির, ছাবের আহম্মদ ও মুজিবুর রহমার, মানস মুকুল চাকমা, জেলা মহিলা দলের আহবায়ক নুর জাহান বেগম পারুল যুগ্ম আহবায়ক, ইয়াছমিন বাবলী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমনসহ অনেকে।
নেতাকর্মীদের দাবি দীপেন দেওয়ান নিজ থেকে পদত্যাগ করেনি, একটি মহল তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন। আমরা যতটুকু জানি তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তারা দাবি করে বলেন, যারা মন্ত্রীর পদত্যাগে ইন্ধন দিয়েছে তারা আজকের বিক্ষোভ মিছিল বা সড়ক অবরোধে অংশ নেননি। এতে ষড়যন্ত্রকারীদের অবস্থান পরিস্কার হয়েছে।
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের দাবি পাহাড়ের একমাত্র অবিসাংদিত নেতা দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য মন্ত্রী হিসেবেই বহাল রাখতে জোরদাবি জানাই। যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণরায় ঘোষণা না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দীপেন দেওয়ান শারীরিকভাবে অসুস্থ নন।’ দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল তাঁর অনুসারী-সমর্থকেরা রাঙামাটি শহরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের দাবি, চাপ প্রয়োগের কারণে মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। ঘটনার একঘন্টা পর কোতোয়ালি থানার পুলিশ এসেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
অপরদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (০১লা জুন) বাঘাইছড়ি উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ ব্যানারে উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান সড়কে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা “মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ মানি না, মানবো না”সহ বিভিন্ন ¯েøাগান দেন। পরে তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং মন্ত্রীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত পদত্যাগের দাবির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি পার্বত্যবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নয় বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাই তাঁর পদত্যাগের যেকোনো দাবি প্রত্যাহারের আহŸান জানান তারা।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান সোমবার(১লা জুন) শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন, যার ফলে নিয়মিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ অবস্থায় সরকারের কার্যক্রমের গতি বজায় রাখার স্বার্থে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি পদত্যাগের আবেদন করেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রায় সাড়ে তিন মাসের মাথায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, এই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে গৃহিত সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে দীপেন দেওয়ান পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি জানান।
পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে তিনি পদ থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।
গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি ২৯৯নং আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দীপেন দেওয়ান।
এরপর ১৭ই ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের সাথে তিনিও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হন দীপেন দেওয়ান।
আর একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় চট্টগ্রামের হাটহাজারী আসনের এমপি মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
এদিকে, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে নানা সন্দেহ পোষণ করছেন। স্বাস্থ্যগত অসুস্থতার কারণ দেখালেও তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক কোন অদৃশ্য কারণ থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। কেউ কেউ মনে করছেন তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। আবার অনেকে তাঁর পদত্যাগকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
মন্ত্রীর আকস্মিক পদত্যাগ, নেপথ্যে নানা আলোচনায় ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা গৃহীত হয়। সরকার গঠনের সাড়ে তিন মাসের মাথায় তাঁর পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় পরিচালনা, পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন ও রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি অন্যতম।
পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান লিখেছেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে আমার বর্তমান পদ(মন্ত্রী) থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।’
৬৩বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন।
প্রার্থী ভাল হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(পিসিজেএসএস) সভাপতি শ্রী জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা দীপেন দেওয়ানকে সমর্থন দিয়ে তাদের কোন প্রার্থী হতে দেয়নি। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি।
২০০৫সালে যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে দীপেন দেওয়ান বিএনপিতে যোগ দেন। ২০১০সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০১৬সাল থেকে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিয় বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।



















