সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করলো বিজিবি

সীমান্ত ফাঁকি দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ রুখতে আরও একটি বড় সাফল্য দেখালো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সাতক্ষীরার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত বিশেষ ও চিরুনি অভিযানে জব্দকৃত আনুমানিক ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন, ২০২৬) সকালে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সদর দপ্তরে এক জাঁকজমকপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিশাল মাদকভাণ্ডার বিনষ্ট করা হয়।
​হালের ভয়ানক মাদকের বড় চালান ধ্বংস
​বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত মাদকের তালিকায় ঐতিহ্যবাহী মাদকের পাশাপাশি ছিল হালের উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে আনা বেশ কিছু ভয়ানক ও অতি উচ্চমূল্যের রাসায়নিক মাদক। যার মধ্যে রয়েছে:
​ক্রিস্টাল মেথ আইস ও এলএসডি: তালিকায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও দামি মাদক ছিল ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং এলএসডি (LSD), যা তরুণ সমাজকে ধ্বংসের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে সীমান্ত পার করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
​ফেনসিডিল ও বিদেশি মদ: ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা বিভিন্ন নামী-দামী ব্র্যান্ডের মদের বোতল, ক্যান এবং বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল।
​ইয়াবাসহ অন্যান্য: এছাড়াও ধ্বংসের তালিকায় ছিল বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ও নেশাজাতীয় ইনজেকশন।
​‘মাদককে না বলুন’ স্লোগানে জিরো টলারেন্স ঘোষণা
​মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
​অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেশের যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
কর্মকর্তারা বলেন: ​”সীমান্ত দিয়ে একটি মাদকের কণাও যেন দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিজিবি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে আমাদের এই ধরনের অভিযান এবং কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”
​রোলার দিয়ে পিষে ও আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংসযজ্ঞ
​স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এই মাদক ধ্বংস করা হয়। শত শত বোতল ফেনসিডিল ও বিদেশি মদ সারিবদ্ধভাবে রাস্তায় সাজিয়ে রোলার দিয়ে পিষে ফেলা হয় এবং রাসায়নিক মাদকগুলো আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা হয়।
​সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির এমন যুগান্তকারী ও নিয়মিত তৎপরতার কারণে মাদক চোরাকারবারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।