খুলনায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন উপলক্ষে খুলনায় এক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) সকালে খুলনা খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অডিটোরিয়ামে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, একটি শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘এ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিরোধযোগ্য বিভিন্ন রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার দেশের প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ও প্রয়োজনে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি শক্তিশালী জাতি গড়তে হলে শৈশব থেকেই তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে, যোগ করেন তিনি।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন, কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. আকিব উদ্দিন, স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ্বাসসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খুলনা মহানগরীতে এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১২ হাজার ৩৩৭ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৯৬ হাজার ৬৫৫ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ক্যাপসুল প্রদান করা হবে।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মোট ১ হাজার ৪২০ জন স্বেচ্ছাসেবক এ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। এছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক ৫৮০টি কেন্দ্রসহ মোট ৭১০টি কেন্দ্রে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এর পাশাপাশি ৮০টি মোবাইল কেন্দ্র এবং ৫০টি এনজিও পরিচালিত কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। পুরো কার্যক্রম তদারকিতে থাকবেন ৬২ জন সুপারভাইজার।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সরকারের এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।























