ভারতে শিশু ধর্ষণের প্রধান অভিযুক্ত এনকাউন্টারে নিহত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার বারুইপুর শহরতলিতে এগারো বছর বয়সী এক শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার মামলার প্রধান সন্দেহভাজন প্রভাস মণ্ডল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন।
মধ্যরাতের দিকে তদন্তের স্বার্থে অপরাধের দৃশ্য পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়।
বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্তে নেমে প্রভাস মণ্ডলসহ আনন্দ সরদার এবং দিবাকর সরদার নামের তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ইতিমধ্যে বাকি দুজন নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। এর পাশাপাশি মঙ্গলবার উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট এলাকা থেকে কবির মোল্লা নামের চতুর্থ আরেক অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে নাবালিকাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করার এই পুরো ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার দিন প্রভাস মণ্ডলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শিশুটিকে ফুসলিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে আসার জন্য, যেখানে অন্য অভিযুক্তরা আগে থেকেই ওত পেতে বসেছিল। অপরাধ সংঘটিত করার পর তারা শিশুটিকে জীবন্ত অবস্থাতেই বস্তায় পুরে পুকুরে ফেলে দেয়, যার প্রমাণ মিলেছে ময়নাতদন্তে শিশুটির ফুসফুসে পানি পাওয়ার মাধ্যমে।
গত রবিবার শিশুর লাশ উদ্ধারের পর দক্ষিণ শহরতলিতে তীব্র ক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং উত্তেজিত জনতা রেললাইন ও পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই সহিংসতা এবং সন্দেহবশত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামের এক সম্পূর্ণ নির্দোষ যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত অন্তত বিশজনকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করেন এবং সহিংসতায় উস্কানি দেওয়ার অপরাধে প্রায় দুইশত লোককে চিহ্নিত করার কথা জানান।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ‘একটি ব্যক্তিকেও ছাড় দেওয়া হবে না এবং সরকার তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেবে’। তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক বা ডিজিপি সিদ্ধ নাথ গুপ্তকে আগামী বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ দমনে জেলার প্রতিটি থানাকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে এই ঘটনাটি ইতিমধ্যে একটি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে, যেখানে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে যে পুলিশ মূল আসামিদের আড়াল করার চেষ্টা করছিল।
সূত্র: এনডিটিভি























