বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর প্রাণহানি, বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যুতে হত্যার অভিযোগ

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের হরিহরনগর ইউনিয়নে একই দিনে পৃথক দুটি মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক, উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (০৭ জুলাই ২০২৬) ভোরে মাছের ঘেরের বিদ্যুৎচালিত মোটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, আগের রাতেই একই ইউনিয়নের আরেক গ্রামে এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ ওঠায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (০৭ জুলাই-২০২৬) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে ইউনিয়নের মুক্তারপুর মাঝেরপাড়া গ্রামে মাছের ঘেরের বিদ্যুৎচালিত মোটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান জিয়াউর রহমান (৫০)। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে এবং সুলতান মোড় এলাকার পরিচিত সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় গ্রামপুলিশ আব্দুল খালেক জানান- ফজরের নামাজ শেষে জিয়াউর রহমান বাড়ির পাশের মাছের ঘেরে মোটর চালু করতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, সোমবার (০৬ জুলাই-২০২৬) দিবাগত রাতে একই ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামে রহস্যজনকভাবে মারা যান আরিফুর রহমান (৮০)। তিনি ওই গ্রামের মৃত লাল চাঁদ গাজীর ছেলে এবং স্থানীয় একটি পাঠাগারের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ডান পা পঙ্গু হওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না।
পরিবারের অভিযোগ- পারিবারিক কলহের জেরে তার ছোট স্ত্রী শেফালি বেগম (৫৫) তাকে আঘাত করে হত্যা করেছেন। নিহতের বড় মেয়ের স্বামী আইয়ুব আলী জানান- রাত সাড়ে ৭টার দিকে শ্বশুরের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে মরদেহের কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান।
স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকেও রাতের বেলায় চিৎকার শোনার কথা জানতে পারেন। তিনি ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ মিললে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনসুর আলী বলেন- পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। এরপরই আরিফুর রহমানের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
তবে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার (০৭ জুলাই-২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন- মরদেহের কপালে একটি কাটা দাগ রয়েছে। তবে ওই আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই ইউনিয়নে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় হরিহরনগরজুড়ে শোক, উদ্বেগ ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।






























