ভারী বর্ষণে সাজেক-বাঘাইছড়ি-লংগদুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১০জুলাই পর্যন্ত বন্ধ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সড়ক, সারাদেশের সাথে সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভারী বর্ষণে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১০ই জুলাই পর্যন্ত বন্ধ। জেলাতে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফের জলাবদ্ধতা ও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার। অবস্থার উন্নতি নেই বরং অবনতি হচ্ছে এমন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দীঘিনালা উপজেলার অবস্থা নাজুক পরিস্থিতি। মাইনী নদীর পানি বেড়ে তীরবর্তী নিচু এলাকায় পানি ঢুকেছে।

দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ও মেরুংয়ের কয়েকটি স্থানে পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা-সাজেক-লংগদুর সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাজেকে আটকা পড়েছে ৪শ’৬১জন পর্যটক। এছাড়া, বাসা বাড়িতে পানি ঢুকছে। কয়েকটি এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়ে দূর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। পানি ঢুকে পড়ায় দীঘিনালা ৩৩কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র সংযোগ বন্ধ করে রেখেছে।

এদিকে, জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, মেহেদীবাগ, গঞ্জপাড়া এলাকার একাংশ, রাজ্যমনি পাড়া, কালাডেবা, বটতলী, পেরাছড়া, লার্মাপাড়া, দ্রোণাচার্য পাড়ায় ফের জলাবদ্ধতা ও কয়েকশত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা জুড়ে ইতিমধ্যে বেড়ে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুুত করা হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় শতাধিক পরিবার এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ স্থগিত করেছে। পাহাড়ের ঢাল ও নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।

দুযোর্গপূর্ণ এই সময়ে দুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার প্রধান প্রধান নদী-চেঙ্গী, মাইনী ও ফেনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা শহরের নেন্সিবাজার, মোল্লাাপাড়া, কলাবাগান, কৈবল্যপিঠ, আঠার পরিবার, শালবন ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় প্রায় সহস্রাধিক পরিবার চরম পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে দিন পার করছেন।

জেলার হয়ে পথে যাওয়া রাঙামাটির টানা বর্ষণ সাজেকের সঙ্গে সারা দেশের যানচলাচল বন্ধ সাজেকে ৪৬১পর্যটক আটকা পড়েছে। টানা বর্ষণে চেঙ্গি, মাইনি ও ফেনী নদীর পানি দ্রুুত বৃদ্ধি পেয়েছে। চেঙ্গি নদীর পানি পাড়ের কাছাকাছি থাকায় খাগড়াছড়ি শহরের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ৮৩টি পরিবারকে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলার অন্যান্য উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের তালিকা প্রণয়নের কাজও চলমান।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরং স্টিল ব্রিজ এলাকা এবং দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের কবাখালী এলাকায় সড়কের ওপর পানি উঠে গেছে। এ ছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কের কয়েকটি নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে থাকায় আপাতত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
মেরং এলাকার বাসিন্দা মো: জাকির হোসেন বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাইনি নদীর পানি অনেক বেড়েছে। নদীর দুই তীরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। স্টিল ব্রিজ এলাকার কয়েকশ মিটার সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে মেরং বাজারেও পানি ঢুকে পড়তে পারে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত বলেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জেলা জুড়ে খোলা ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জেলার কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রস্তুুতি রয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জেলা বিএনপির উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বান্দরবানে অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১০ই জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার(৭ই জুলাই) বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো: সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পাহাড় ধসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আগামী ১০ই জুলাই(শুক্রবার) পর্যন্ত ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময়ে ট্যুর অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

টানা অতিভারী বর্ষণে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি সড়কে পানি জমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে রাঙামাটির পর্যটন নগরী বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে প্রবল বর্ষণের কারণে ৪৬১পর্যটক আটকা পড়েছে। বুধবার(৮ই জুলাই) এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা বলেন, প্রবল বর্ষণের কারণে সাজেকের মাচালং সড়কে পানি উঠায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যদি বিকেলের মধ্যে সড়ক থেকে পানি সরে গেলে আটকাপড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়ি সদরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

রিসোর্ট মালিক সমিতির এ নেতা জানান, আপাতত আটকাপড়া পর্যটকদের কাছ থেকে রুম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। এর আগে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেকের সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। গত মঙ্গলবার(৭ই জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস এবং রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় চলমান টানা ভারী বর্ষণের ফলে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে সড়ক যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ সময় সাজেক ভ্যালির সব পর্যটন কেন্দ্র, রিছাং ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া সাজেকে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্যও সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পাহাড় ধসের উচ্চঝুঁকিতে মানুষ টানা বর্ষণে ৯টি উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোর খোজঁখবর নেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

টানা পাচদিনের ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির স্বাভাবিক জনজীবন। গত রোববার(৫ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃহষ্পতিবার(৯ই জুলাই) পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি দিনভর অব্যাহত থাকায় চেঙ্গী নদীসহ জেলার বিভিন্ন ছড়া-খালের পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের সড়ক, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
দীঘিনালা-লংগদু সড়কের আটারকছড়া এলাকায় সড়ক প্লাবিত হওয়ায় ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। পাহাড় ধসের আশংকা পাশাপাশি, দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। দীঘিনালা-লংগদু আঞ্চলিক সড়কের ইয়ারংছড়ি এলাকায় ধসের আশংকা সড়ক চলাচল বিঘ্ন রয়েছে এবং নিচু স্থানে পানি উঠে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।

পাচদিন একটানা বৃষ্টি হওয়ায় জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল, ছড়ার পানি দ্রুুত বাড়ছে। গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে জেলা সদর, মহালছড়ি ও দীঘিনালার বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বন্যার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূতি চাকমা বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১টা পর্যন্ত ১৮ঘণ্টায় ৯০মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলার ৯টি উপজেলাতে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস আশংকা ও জলাবদ্ধতা: জনজীবনে স্থবিরতা, ভোগান্তিতে পড়েছে নিচু এলাকার বসবাসকারী মানুষজন। গত বৃধবার(৮ই জুলাই) পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের ফলে পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলায় একাধিক স্থানে পাহাড় ধস আশংকা ও জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।