প্রতিষ্ঠার ৬ বছরেও চালু হয়নি শিক্ষা কার্যক্রম, অনিশ্চয়তায় খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পার হলেও এখনো শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। নিজস্ব ক্যাম্পাসের অভাব, জমি অধিগ্রহণে ধীরগতি এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে কার্যক্রম চালু হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা কার্যত কর্মহীন সময় পার করছেন।
বর্তমানে একটি ভাড়া করা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নিরালা আবাসিক এলাকায় ছয় তলা একটি ভবন ভাড়া নিয়ে অফিস পরিচালনা করা হলেও শুধুমাত্র ভাড়া বাবদই বছরে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এই ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি হাসপাতালেই যদি অস্থায়ীভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যায়, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু হলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা সরাসরি হাসপাতালে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এতে যেমন তাদের দক্ষতা বাড়বে, তেমনি রোগীদের সেবার মানও উন্নত হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যয়ও অনেকাংশে কমানো যাবে।
এই প্রস্তাবের বাস্তবতা যাচাই করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএনএম মঈনুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল খুলনা সফর করেছে। বুধবার রাতে তারা শহরে পৌঁছায় এবং খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালটি পরিদর্শনের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঢাকায় ফিরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের এক অধ্যাদেশে এর নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম রাখা হয়। প্রতিষ্ঠার পরপরই অস্থায়ী প্রশাসনিক কার্যালয় চালু করা হলেও এখনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ২০২৪ সালের ৯ মে একনেকে প্রায় ১ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন জানান, জমি অধিগ্রহণ, ভবন নির্মাণ এবং পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাসে স্থানান্তর সম্পন্ন করতে আরও ৭ থেকে ৮ বছর সময় লাগতে পারে। এত দীর্ঘ সময় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা সম্ভব নয় বলেই তারা বিকল্প হিসেবে অস্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
অন্যদিকে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত না হলে একটি সম্ভাবনাময় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থেকে যাবে, যা স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।






























