“আমরাও পারি প্রমাণ করতেই আসা”: ধামসোনা ইউপি সচিবের বিস্ফোরক বক্তব্য

সাভারের আশুলিয়া এলাকার ধামসোনা ও পার্শ্ববর্তী ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদে সচিব পদে বদলি ও নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র জটিলতা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য যোগদান করা সচিব মাসুদ করিমের এক বিস্ফোরক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাভারের স্থানীয় প্রশাসনিক অঙ্গনে এখন তোলপাড় চলছে।

বদলির জন্য সাবেক সচিবের বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের চেষ্টা এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে মাসুদ করিম স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “আমরাও পারি—এটা প্রমাণ করতেই আমাদের এখানে আসা।”

৩০ লাখ টাকার তদবিরের অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, ধামসোনা ও ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদে বদলি হয়ে আসতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন সাবেক ধামসোনা ইউপি সচিব আবুল কালাম আজাদ। ধামসোনার নতুন সচিব মাসুদ করিমের দাবি, এই বদলি নিশ্চিত করতে সাবেক এই সচিব ৩০ লাখ টাকারও বেশি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেন এবং ইয়ারপুর ইউনিয়নের সচিবকে অবহিত করেন। মাসুদ করিমের দাবি, তার এই সতর্কবার্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতার কারণেই আবুল কালাম আজাদের ইয়ারপুরে আসার চেষ্টা এবং ইয়ারপুরের বর্তমান সচিব আফজালের সম্ভাব্য বদলি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

সাবেক সচিবের উদ্দেশে হুঙ্কার দিয়ে মাসুদ করিম বলেন, “সাবেক সচিব যদি এখানে বদলি হয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন, তবে তার বিরুদ্ধে এমন ফাইল জমা দেওয়া হবে যে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত হতে হবে। সাবেক সচিবকে কোনোভাবেই আর সাভারে থাকতে দেওয়া হবে না।”

এ বিষয়ে ইয়ারপুর ইউনিয়নের সচিব আফজাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমিও জানতে পেরেছি। আবুল কালাম ভাই অনেক সিনিয়র সচিব। বদলির পরদিন থেকেই তিনি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে শঙ্কার বিষয় হলো—উনার অনেক প্রভাবশালী লোকজনের সাথে ওঠাবসা রয়েছে, তাই কত দিন এখানে থাকতে পারব জানি না।”

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি কোনো অর্থ লেনদেন বা তদবিরের সাথে জড়িত নই। প্রশাসন যেখানে বদলি করবে, আমি সেখানেই দায়িত্ব পালন করব।”

সংগঠনের ফান্ড কালেকশন ও নেতৃত্বের ঘোষণা
একদিকে স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা বললেও, অন্য দিকে বক্তব্যে মাসুদ করিম নিজের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্দেশ্যের কথা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি (বাপসা)-র সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা মাসুদ করিম জানান, ধামসোনা পরিষদে মাত্র ৬ মাস অবস্থান করবেন তিনি। এই ৬ মাসের মধ্যে সংগঠনের জন্য ফান্ড কালেকশন করা এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরি করাই তার মূল লক্ষ্য।

একই সাথে মাসুদ করিম স্বীকার করেন, তিনি নিজেই সাভারের অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদে বেশ কয়েকজন সচিবের বদলির ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
সুশাসন নিয়ে জনমনে উদ্বেগ একজন দায়িত্বে থাকা ইউপি সচিবের মুখে সহকর্মীর বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ যেমন ইউপি প্রশাসনের চরম অনিয়মের চিত্র ফুটিয়ে তোলে, ঠিক তেমনি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে সচিবদের বদলি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিষদের বাইরে ‘সংগঠনের ফান্ড কালেকশন’-এর ঘোষণা নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানমের সাথে আওয়ার নিউজ বিডি ডটকমের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে(হুয়াটসআপে) ও লিখিত প্রশ্নের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ যদি ক্ষমতার লড়াই, অর্থ লেনদেন এবং ব্যক্তিগত সংগঠনের ফান্ড সংগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়, তবে সাধারণ জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। সার্বিক বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং সাভারের ইউপি সচিবদের নিয়ে চলমান ‘বদলি বাণিজ্যের’ সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

উল্লেখ্য: বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি (বাপসা)-র ঢাকা জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন ছাড়াই সম্প্রতি একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে কেরানীগঞ্জের সচিব এমদাদ সভাপতি, পাথালিয়ার সচিব মীর বারেক (সাবেক সভাপতি) সাধারণ সম্পাদক এবং ধামসোনা ইউনিয়নের সচিব মাসুদ করিম সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।