রিংজাল, দখল ও দূষণে কমছে দেশীয় মাছের উৎপাদন

একসময় রাজারহাটের নদী, খাল, বিল ও জলাভূমিতে পুঁটি, টেংরা, খলিশা, মলা, কৈ, শিং, মাগুরসহ নানা দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ছিল। একইভাবে বাবুই, শালিক, দোয়েল, মাছরাঙা, বক, পানকৌড়ি, ডাহুকসহ অসংখ্য দেশীয় পাখির কিচিরমিচিরে মুখর থাকত গ্রামবাংলা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মাছ ও পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর পেছনে মানুষের নানা কর্মকাণ্ডই সবচেয়ে বড় কারণ।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের বিবৃতিতে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে দেশীয় মাছ প্রায় ২০-৩০ শতাংশ কমেছে তবে দেশীয় মাছের তুলনায় চাষের মাছ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চাকিরপশার বিলের জেলে আব্দুর রহিম জানান, নদী-খালে মাছ পাওয়া যায় না। অবৈধ কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি জাল ও অতিক্ষুদ্র ফাঁসের জাল ব্যবহারের কারণে ডিমওয়ালা মাছ এবং পোনা পড়ছে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকার সচেতন নাগরিক আফজাল হোসেন বলেন, কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বৃষ্টির পানির সঙ্গে জলাশয়ে গিয়ে মাছের আবাসস্থল নষ্ট করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, খাল-বিল ভরাট, জলাভূমি দখল, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় গাছ কেটে ফেলা, বাঁশঝাড় ও ঝোপঝাড় উজাড় এবং জলাভূমি ধ্বংস হওয়ায় দেশীয় পাখির নিরাপদ আবাসও হারিয়ে যাচ্ছে।

পরিবেশকর্মী আরিফুল ইসলাম বলেন, পাখি কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ হলো খাদ্যের সংকট। ক্ষতিকর কীটনাশকের কারণে মাঠে পোকামাকড় কমে যাচ্ছে, ফলে কীটভুক পাখিগুলো পর্যাপ্ত খাদ্য পাচ্ছে না। কোথাও কোথাও শিকার ও ফাঁদ পেতেও পাখি ধরা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, দেশীয় মাছের ওপর বিদেশি প্রজাতির মাছের প্রতিযোগিতা, জলদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকে থাকার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবিষয়ে, রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজ্ সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, কীটনাশক ব্যবহারের নিয়মকানুন সম্পর্কে বিভিন্ন সচেতনতা তৈরিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তুু এসকল বিষয়ে তাদের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।ফলে তারা নিজেদের ক্ষতিসহ দেশের সম্পদেরও ক্ষতি করছেন।