সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক ইউনুস পুত্রের জিপিএ -৫ অর্জন, লেখাপড়া অনিশ্চিত

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম বেজাগ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী মো. কিবরিয়া হাসান মিঠু (১৭) এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ -৫ অর্জন করেছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর মায়ের সংগ্রামের মধ্যেই চলছে তার পড়াশোনা।
বাবা ছিলেন সাংবাদিক। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবককে হারিয়ে এখন আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। ফলে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
কিবরিয়া হাসান মিঠু এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ -৫ অর্জন করেছে। তার স্বপ্ন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকট সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিবরিয়ার বাবা প্রয়াত মো. ইউনুস আলী অল্প বয়সেই সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন। দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে তিনি ‘স্বদেশ প্রতিদিন’ ও ‘সময়ের কণ্ঠস্বর’ পত্রিকায় জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি লালমনিরহাট রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন দায়িত্বশীল ও সক্রিয় সাংবাদিক।
২০২৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইউনুস আলী মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সাংবাদিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে পরিবারটিও হারায় তাদের প্রধান অবলম্বন। স্বামীর মৃত্যুর পর উম্মে কুলসুম দুই সন্তানকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন।
বর্তমানে কিবরিয়া, তার বড় ভাই ও মা—এই তিন সদস্যের পরিবার। কিবরিয়ার বড় ভাই মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজে পড়াশোনা করছেন। দুই সন্তানের পড়াশোনার ব্যয়, পারিবারিক খরচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারটিকে। পরিবারের নিজস্ব সম্পদ বলতে রয়েছে বসতভিটা; স্থায়ী আয়ের পর্যাপ্ত কোনো উৎস নেই।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কিবরিয়া পড়াশোনায় আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চায়। কিন্তু অর্থের অভাবে তার শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন আর্থিক সংকটের কারণে থেমে না যায়, সেজন্য সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
কিবরিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এককালীন কিংবা নিয়মিত আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ অথবা পড়াশোনার ব্যয় বহনে সহযোগিতা পেলে তার শিক্ষাজীবন চালিয়ে নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, একজন সাংবাদিকের মেধাবী সন্তানের শিক্ষাজীবন রক্ষায় সমাজের মানুষের এগিয়ে আসা উচিত। সম্মিলিত সহযোগিতায় কিবরিয়ার পড়াশোনা অব্যাহত রাখা সম্ভব হলে সেটিই হবে প্রয়াত সাংবাদিক মো. ইউনুস আলীর পরিবারের প্রতি একটি মানবিক সহমর্মিতা।


























