ব্যারেজের পর দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করার সিদ্ধান্ত: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেন, ‘আমাদের পদ্মা ব্যারেজ হচ্ছে, কিন্তু আরেকটি জিনিস হতে হবে, পদ্মা সেতু। আমি আপনাদের খুশির খবর দিই, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর কে. রাজ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান এই ব্যারেজ করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে এই ব্যারেজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের তিন ভাগের এক ভাগ ফারাক্কার কারণে শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। দেশের মাটি ও মানুষকে রক্ষা করতে প্রয়াত নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পদ্মা ব্যারেজের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা কারণে তখন এটি বাস্তবায়ন হয়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে এর প্রক্রিয়া চলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা এই মাটির সন্তান। তিনি পদ্মা ব্যারেজ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে আপনাদের জনপ্রিয় নেতা সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ অত্যন্ত আন্তরিকভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছেন।’

নিজের পারিবারিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হাবাসপুরে আমার নানাবাড়ি। আমার মায়ের জন্মও এখানে। সুতরাং হাবাসপুরের প্রতি আমার আলাদা আবেগ ও অনুভূতি রয়েছে।’

এ সময় তিনি উপস্থিত জনতাকে পদ্মা সেতুর দাবিতে সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ করতালি দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে সাড়া দেন।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।

এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ অনেকে জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।