বিএনপি ভোটে আসবে ধরে আওয়ামী লীগে প্রস্তুতি

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আসবে ধরে নিয়েই কৌশল সাজাচ্ছে আওয়ামী লীগ। প্রার্থী নির্বাচন, জোট বাড়ানো, আসন ভাগাভাগীর ক্ষেত্রে জোরাল প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা মাথায় রাখছে ক্ষমতাসীন দল।

নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দেয়াসহ বিভিন্ন দাবি দিয়েছে। তবে পাঁচ বছর আগে দাবি আদায়ে রাজপথে যেভাবে সহিংস কর্মসূচি ছিল, সে রকম কিছু নেই এবার। এ জন্যই আওয়ামী লীগ মনে করছে, শেষমেশ ভোটে আসছে বিরোধীপক্ষ।

ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল নির্বাচন অংশগ্রহণ করুক। দশম জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি যে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এর জন্য তাদের অনেক মাশুল দিতে হয়েছে। আশা করি, বিএনপি দ্বিতীয়বার এ ধরনের ভুল করবে না।’

তবে বিএনপির নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলে নির্বাচনী সিদ্ধান্তগুলো একে একে প্রকাশ করবে আওয়ামী লীগ।

বিএনপির নতুন জোট ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে দুপক্ষের বিরোধ মেটেনি। ফ্রন্ট নেতারা হুমকি দিচ্ছেন আন্দোলনের। এর মধ্যে আজ সকালে আবার বসতে যাচ্ছে দুই পক্ষ। তবে আওয়ামী লীগ মনে করে, ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে ব্যর্থতার পর আবার একই পথে বিরোধী জোটের যাওয়ার কারণ নেই।

বিএনপি-জামায়াত জোট দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় ভোটের মাঠে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেই পড়তে হয়নি আওয়ামী লীগ ও তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে লড়া জাতীয় পার্টিকে। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও তাই অনেকটা গা ছাড়া মনোভাব ছিল দুই দলের।

তবে ক্ষমতাসীন নেতারা বলছেন, ঐক্যফ্রন্ট ভোটে এলে এবার সতর্ক থাকতে হবে। তাই প্রার্থী বাছাইয়ে মুন্সিয়ানা ছাড়াও নিজেদের শক্তি বাড়াতে হবে। এ জন্য ১৪ দলের বাইরে নতুনদের জোটে আনা হবে। ২০০৮ সালের মতো জাতীয় পার্টিকে নিয়ে হবে মহাজোট।

আবার যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন, দলের ভেতর থেকে যেন কোনো বিরোধিতায় পড়তে না হয়, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোন্দলে জড়িতদের সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কারের আগাম ঘোষণাও এসেছে।

যদিও গত নির্বাচনে বিদ্রোহীদের শুধু সতর্ক করা হয়েছিল। আর দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী নেতাদের পরে দলে ফিরিয়েও আনা হয়েছে।
১৪ দলীয় জোট এবং সম্ভাব্য মহাজোটের শরিকদের কত আসনে ছাড় দেয়া হবে, সেই বিষয়টি নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি আওয়ামী লীগ। তবে বিষয়টি এখনই প্রকাশ করতে চান না নেতারা।

রবিবার ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোট নেতাদের বলেন, ‘আসন বণ্টন নিয়ে ভাববেন না। আশা করি, এটা নিয়ে সমস্যা হবে না। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আপনাদের কোনো প্রার্থী থাকলে সেই তালিকা দেন। আমরা মনোনয়ন দেব। কিন্তু আসন ভাগাভাগীর জন্য প্রার্থী তালিকা দিলে হবে না।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সব নির্বাচনকে আমরা সিরিয়াসলি নেই। সব প্রতিদ্বন্দ্বী আমাদের জন্য সমান। বিশেষ কোনো দলের প্রতি আমাদের আলাদা কোনো চিন্তাভাবনা নেই। আমরা দেশের জনগণের জন্য কাজ করেছি, জনগণই তা মূল্যায়ন করবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’

দলটির সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ‘আমরা আশাবাদী বিএনপি নির্বাচনে আসবে। এ জন্য আমাদের প্রস্তুতির ধরন পরিবর্তন হবে না। বিএনপি আসলে আমরা খুশি, না আসলেও আমাদের কোনো অসুবিধা নাই।’