ইসলামী সংগীত শিল্পী ওবায়দুল্লাহ তারেকের কন্ঠে হেদায়েতের সূর, ব্যক্তি জীবনে পরকিয়ায় আসক্ত

বাংলাদেশের ইসলামী সংগীত অঙ্গনের অত্যন্ত জনপ্রিয় শিল্পী ওবায়দুল্লাহ তারেককে ঘিরে উঠেছে ভয়াবহ অভিযোগের ঝড়। ইসলামী গানের সুরে যিনি মানুষকে নসিহত করেন, সেই শিল্পীর ব্যক্তিজীবনে পরকীয়া, ধারাবাহিক মিথ্যাচার ও গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্ত্রী শাহনাজ সুলতানা শাম্মী।
ফেসবুকে দেওয়া প্রায় সাড়ে তিন হাজার শব্দের এক দীর্ঘ ও আবেগঘন স্ট্যাটাসে শাম্মী দাবি করেন ১৯ বছরের দাম্পত্য জীবন ধ্বংস করে ওবায়দুল্লাহ তারেক স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই অর্ধেক বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে শেষে তাকে বিয়ে করেছেন।এই অভিযোগ প্রকাশের পর ইসলামী সংগীত অঙ্গনে নেমে এসেছে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিতর্ক।
নিজেকে ওবায়দুল্লাহ তারেকের ‘প্রথম স্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে শাহনাজ সুলতানা শাম্মী লেখেন—
“অনেক দিন চুপ ছিলাম। সহ্য করেছি, ধৈর্য ধরেছি। সংসার বাঁচানোর জন্য মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরেছি। আজ এই লেখা কোনো প্রতিশোধের জন্য নয়—শুধু সত্যটা স্পষ্ট করে রেখে যাওয়ার জন্য।”
তিনি জানান, তাঁদের দাম্পত্য জীবনের বয়স ১৯ বছর। এই সংসারে তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এক সময় ভালোবাসা, ত্যাগ আর সংগ্রামে গড়া সুখী সংসার আজ ভেঙে পড়েছে। সন্তানরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, আর তিনি দাঁড়িয়ে আছেন এক নির্মম বিশ্বাসঘাতকতার সামনে।
শাম্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় ওবায়দুল্লাহ তারেক ছিলেন একজন সাধারণ ছাত্র না অর্থ, না সামাজিক অবস্থান। কষ্টের দিনগুলো একসঙ্গে কাটিয়ে তিনি সংসার সামলেছেন, বিলাসিতা ত্যাগ করেছেন, স্বামীর প্রতিষ্ঠার পেছনে নীরবে অবদান রেখেছেন।কিন্তু জনপ্রিয়তা, অনুষ্ঠান আর ব্যস্ততার সঙ্গে সঙ্গে সংসারে সময় কমতে থাকে। অবশেষে নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন পূরণ হলেও ঠিক তখনই শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অধ্যায়।
শাম্মী অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর ধরে তাঁর স্বামী অন্য এক নারীতে আসক্ত ছিলেন। একাধিকবার হাতেনাতে ধরা পড়লেও প্রতিবার একই কথা শুনতে হয়েছে “আমি ভুল করেছি, আর হবে না।”সংসারের সম্মান ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি বিষয়টি গোপন রেখেছেন, নিজেকে ভেঙেছেন, কাউকে কিছু জানাননি।
একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর সম্পর্ক ২১–২২ বছর বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে। শাম্মীর দাবি, ওই তরুণীকে ‘দ্বীনদার’, ‘খুব পর্দানশীন’ বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং সম্পর্কের পক্ষে নানা ধর্মীয় ব্যাখ্যা হাজির করা হয়।
এমনকি স্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলা হয়—
“এই পথ থেকে ফেরা সম্ভব নয়”
“তুমি মেনে নিলেই পারো, গোপনে থাকুক”
শাম্মী প্রশ্ন তোলেন—দ্বীনের নাম কি তবে ব্যক্তিগত কামনা বৈধ করার ঢাল হয়ে উঠেছে?
সবচেয়ে নির্মম অভিযোগ—১৯ বছর সংসার করার পর স্বামীর মুখে শুনতে হয়েছে, তিনি নাকি ‘পারফেক্ট নন’। অন্য নারীই নাকি তার ‘মনের মতো’, যিনি তাকে বিয়ে করে ইসলামের দাওয়াত দেবেন।
শাম্মীর ভাষায়,“আমি হাতে পায়ে ধরেছি, সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি—শুধু আমার সন্তানদের পরিচয় আর সংসারটা বাঁচানোর জন্য।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
দীর্ঘ এক বছর পরকীয়া সম্পর্কের পর গত ২০ নভেম্বর ওবায়দুল্লাহ তারেক ওই তরুণীকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ করেন শাম্মী। তাঁর ভাষায়, “হারাম সম্পর্ককে হালাল বানানো হয়েছে—কিন্তু ভেঙে ফেলা হয়েছে একটি পরিবার।”
এ বিষয়ে ওবায়দুল্লাহ তারেকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।






























