কেমন হবে আগামীর শিক্ষা ব্যবস্থা জানালেন উপদেষ্টা মাহদী আমিন

এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার্থীদের শুভকামনা জানিয়ে কেমন হবে আগামীর শিক্ষা ব্যবস্থা- তা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষা ব্যবস্থার কারিকুলাম আমরা এমনভাবে পরিবর্তন করছি, যেখানে পুথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সংস্কৃতি এবং ক্রীড়াকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আমরা পুরো এডুকেশন সিস্টেমে নিয়ে আসতে চাইছি। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন রয়েছে টেকনিক্যাল এবং প্রফেশনাল এডুকেশনকে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক করা। ক্লাশ সিক্স (ষষ্ঠ শ্রেণি) থেকে সেটা আমরা করছি। প্রাথমিকভাবে থিওরিটিক্যাল এবং তার পরবর্তীতে প্র্যাক্টিক্যালি সেটা যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে তৃতীয় ভাষা আমরা ধারাবাহিকভাবে শুরু করতে যাচ্ছি।
বুধবার দুপুরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব কথা জানান।
এ বছরের (২০২৬) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) শুরু হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ওভারঅল শিক্ষাব্যবস্থাকে আমরা ৩৬০ ডিগ্রি একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখি, যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য যার যেই সাবজেক্টে পড়তে ভালো লাগে, সেখানে যেন রাষ্ট্র তাকে বিকশিত হওয়ার সে সুযোগটুকু তৈরি করে দেয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী আরও বিশ্বাস করেন- একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শিক্ষার্থীর সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে সেভাবেই গড়ে তোলা, যেখানে তার ভবিষ্যৎ যেন বাংলাদেশের জন্য সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। আমাদের উদ্দেশ্য এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে নৈতিক শিক্ষা থাকবে, পারিবারিক শিক্ষা থাকবে, সামাজিক মূল্যবোধ থাকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কর্মদক্ষ হয়ে ওঠার জন্য যে যোগ্যতা প্রয়োজন, সেটি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে হতে পারে, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে হতে পারে, দেশে বা বিদেশে চাকরি প্রাপ্তির জন্য হতে পারে। এ সবকিছুই কিন্তু ধারাবাহিকভাবে আমরা শিক্ষাকার্যক্রমে শুরু করব। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার গঠনের পর আমাদের মাত্র সাড়ে চার মাস রয়েছে। এর মধ্যে দৃশ্যমান বড় ধরনের কারিকুলাম পরিবর্তন সম্ভব না। আগামী শিক্ষাবর্ষে বই ছাপানোর জন্য আমাদের হাতে সময় খুব সীমিত। তবে তার পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ইনশাআল্লাহ আমরা শুরু করবো।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এই পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে, আমরা সর্বোচ্চ শুভকামনা এবং আন্তরিকতা জানাচ্ছি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য।
সুন্দর, স্বতঃস্ফূর্ত ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে নির্দেশনা
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন- পুলিশ, প্রশাসন এবং এই পরীক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা আছেন তাদের প্রত্যেকের প্রতি সরকারের কাছ থেকে নির্দেশনা থাকবে, যেন সুন্দর, স্বতঃস্ফূর্ত এবং আন্তরিকতাপূর্ণ একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন ভীতি বা চাপে না থাকে এবং এমন একটা পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে যেন তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায়টাকে তারা সুন্দর করে ডিফাইন করতে পারে, সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
মাহদী আমিন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য- যেমন এসএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্র আমরা দেখেছি, সেখানে নকল এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে অভিযোগ ছিল সেটা ভেঙে দিতে পেরেছি। এ পরীক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে, কোনো নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা যেকোনো অনিয়ম যেগুলো রয়েছে, সেগুলো থেকে আমরা বেরিয়ে এসে এক সুন্দর ন্যায়সঙ্গত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত, সুষ্ঠু প্রক্রিয়াতে পরীক্ষা এবং অংশ নিশ্চিত করা। আমাদের সব ছাত্র-ছাত্রীর প্রতি শুভকামনা রইল।
ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান
মাহদী আমিন বলেন, যথারীতি বিএনপির আগের প্রতিটি সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবারও কিন্তু ছাত্রের সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার। আর অংশগ্রহণকারী ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজারেরও বেশি। কারণ, ছাত্রীদের অংশ ছাত্রদের অংশের চাইতে বেশি এবং আমরা ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক প্রত্যেককে আহ্বান জানাব- সুন্দরভাবে যেন পরীক্ষাটা আমরা সম্পন্ন করতে পারি। আগামীর বাংলাদেশ কিন্তু এই শিক্ষার্থীরা গড়ে তুলবে, তাদের জন্য আমাদের সর্বাঙ্গীণ, সর্বোচ্চ শুভকামনা, আন্তরিকতা রইল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।






























