ভারতে মুসলিম নেতার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ

ভারতের উত্তর প্রদেশে রাজ্যের রামপুর জেলায় এক প্রবীণ মুসলিম নেতার প্রতিষ্ঠিত ‘মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার সরকারি আদেশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে জাতীয় পতাকা হাতে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন শত শত বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। যখন শিক্ষানীতি সংস্কারের দাবিতে দিল্লিতে কয়েক হাজার তরুণের তীব্র আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন, ঠিক তখনই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টি ভবনই ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী মোহাম্মদ আলী জওহরের নামে ২০০৩ সালে ‘মোহাম্মদ আলী জওহর ট্রাস্ট’ গঠন করেছিলেন প্রভাবশালী সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ মুসলিম রাজনীতিবিদ আজম খান। এর তিন বছর পর ২০০৬ সালে রামপুরে ২৫০ একর জমির ওপর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

গত ১৫ জুলাই, যখন দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে তরুণদের আন্দোলন তুঙ্গে ছিল, ঠিক তখনই রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকাংশ ভবন ভেঙে ফেলার নোটিশ জারি করে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবনগুলো নির্মাণে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার মূল নিয়মাবলি ও গাইডলাইন সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে।

রামপুর প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের কেবল দুটি ভবন বৈধ অনুমোদন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ফলে বাকি ৩৮টি ‘অবৈধ’ ভবন আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিজেদের খরচে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। তা নাহলে বুলডোজার নিয়ে প্রশাসন নিজে ভবনগুলো ভেঙে ফেলবে ও তার সম্পূর্ণ খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আদায় করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

পরে সোমবার (২৭ জুলাই) রাজ্য প্রশাসন এই ভাঙার নির্দেশের ওপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করে। তবে এতে উচ্ছেদ অভিযান বা বুলডোজার চালানো পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) জহিরুদ্দিন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে জানান, এই স্থগিতাদেশের মানে উচ্ছেদ বাতিল হওয়া নয়। তিনি বলেন, এর অর্থ হলো রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) নির্ধারিত ৫ আগস্টের শেষ ঘণ্টার মধ্যে ভবনগুলো ভাঙা হবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন আইনি লড়াই চালিয়ে আদালত থেকে এই উচ্ছেদ আদেশটি পুরোপুরি বাতিল বা বাতিল ঘোষণা করার আর্জি জানাচ্ছে।

‘বুলডোজার অভিযান বন্ধের দাবি’
প্রায় ২৫০ একর বিস্তৃত ক্যাম্পাসে অর্ধশতাধিক কোর্সে অধ্যয়নরত প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো এক দুঃসংবাদ। ১৫ জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও সাবেক শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান নিয়ে উচ্ছেদ নোটিশ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

কেবল মুসলিম শিক্ষার্থীরাই যে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক-তৃতীয়াংশের বেশি অমুসলিম বা হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী এর বিরোধিতা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে স্নাতক সম্পন্ন করা উসামা তৈয়ব প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি ‘ককরোচ পার্টি’র (সিজেপি) গণ-আন্দোলনের মুখে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা যেতে পারে, তবে এত শিক্ষার্থী রাজপথে আন্দোলন করা সত্ত্বেও উত্তর প্রদেশ সরকারকে এই বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করা থেকে কেন বিরত রাখা যাবে না?

প্রায় ২৪ কোটি জনসংখ্যার রাজ্য উত্তর প্রদেশে ২০১৭ সাল থেকে কট্টর ডানপন্থি দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় রয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ হলেন গেরুয়া পোশাকধারী একজন কট্টর হিন্দুত্ববাদী।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন চ্যান্সেলর ও প্রতিষ্ঠাতা, ৭৭ বছর বয়সী আজম খান উত্তর প্রদেশে বিজেপির সবচেয়ে সোচ্চার ও অন্যতম তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তিনি সমাজবাদী পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। দলটি রাজ্যের প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মুসলিম এবং একটি বড় অংশের অনুন্নত ও পিছিয়ে পড়া হিন্দু ভোটারদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

আজম খান ১৯৭০-এর দশকে রামপুর থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভারতের সর্ববৃহৎ মুসলিম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আলী গড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ (AMU) থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। আলীগড়ে থাকাকালীনই তিনি একজন তুখোড় ও ছাত্রনেতা হিসেবে উঠে আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগ দিয়ে রামপুরের রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে আধিপত্য বিস্তারকারী সাবেক এক রাজপরিবারকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ জানান। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, রামপুর জেলায় প্রায় ৫০ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে।

১৯৮০ সালে তিনি সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেন ও রামপুর আসন থেকে রেকর্ড ১০ বার উত্তর প্রদেশ বিধানসভার সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন। তিনি একাধিক সরকারে মন্ত্রিত্ব সামলানোর পাশাপাশি বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকাও পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা ও উচ্চকক্ষ রাজ্যসভারও সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে জওহর ট্রাস্ট গঠনের পর তিনি উত্তর ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী মুসলিম নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। আর এর ফলেই তিনি বিজেপির প্রধান রাজনৈতিক টার্গেটে পরিণত হন বলে অনুসারীরা দাবি করেন।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরপরই আজম খানের বিরুদ্ধে জমি দখল, জালিয়াতি ও উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে প্রায় ১০০টি মামলা দায়ের করে যোগী প্রশাসন। এসব মামলার একটি বড় অংশই এই জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত।

আজম খানকে দুই বছরেরও বেশি সময় কারাগারে বন্দি কাটাতে হয়েছিল। পরে ২০২২ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাকে জামিন দেন। কিন্তু তার পরের বছরই রামপুরের একটি স্থানীয় আদালত আজম খান, তার স্ত্রী তাজিন ফাতিমা ও তাদের ছেলে আবদুল্লাহ আজম খানকে ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন।

বর্তমানে আজম খান ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় ‘উসকানিমূলক মন্তব্য’ করার অভিযোগে চলতি বছরের মে মাসে ঘোষিত দুই বছরের সাজা ভোগ করছেন। এর পাশাপাশি একটি ভুয়া আয়কর সংক্রান্ত নথি মামলায়ও তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আজম খানের সমর্থক ও সমাজবাদী পার্টির দাবি, আজম খান এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে করা সব মামলাই রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে রাজ্য সরকার এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে।

সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) জাভেদ আলী খান (আজম খানের আত্মীয় নন) বলেন, জওহর বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের এই সরকারি আদেশ হলো একটি শিক্ষা-বিরোধী ও জনগণকে অশিক্ষিত রাখতে চাওয়া শাসকদলের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নিকৃষ্ট উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে টার্গেট করার পেছনে অনেকগুলো সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি আজম খান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মোলায়েম সিং যাদব এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তৃতীয়ত, রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এটি উদ্বোধন করেছিলেন ও চতুর্থত, এটি একটি সংখ্যালঘু পরিচালিত স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

তবে উত্তর প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠি দাবি করেন, উচ্ছেদ বা ভাঙার আদেশটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি সমাজবাদী পার্টির বিরুদ্ধে ‘সন্তুষ্টির রাজনীতি’ করার অভিযোগ তোলেন।

‘বাড়িতে এসে হুমকি দিচ্ছে পুলিশ’
আরডিএ’র এই আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের ভেতরেও আন্দোলন দিন দিন তীব্র হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা উসমান আলী নামে এক তরুণ বলেন, অন্যরা যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় করতে পারে, তবে আমরা মুসলিম শিক্ষার্থীরা আমাদের নিজের বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষা করতে কেন পারবো না? যদি এর জন্য আমাদের জীবন বা স্বার্থ ত্যাগ করতে হয়, আমরা তা-ও করতে প্রস্তুত; কিন্তু এই অন্যায় আমরা আর মেনে নেবো না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলন স্তব্ধ করতে পুলিশ ধর্মঘটে থাকা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে চাপ দিচ্ছে। পুলিশ আমাদের বাড়িতে গিয়ে বাবা-মাকে ভয় দেখাচ্ছে, কিন্তু আমরা কোনো অবস্থাতেই পিছু হটবো না।

বাড়ছে ক্ষোভ, নীরব ককরোচ পার্টি
শনিবার (২৫ জুলাই) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে সমাজবাদী পার্টির একাধিক সংসদ সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সেখানে উপস্থিত হয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন লোকসভা সদস্য জাভেদ আলী খান, সাম্বালের সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান বার্ক ও কাইরানার সংসদ সদস্য ইকরা চৌধুরী।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে দেশটিতে মুসলিমদের বাড়িঘর, মসজিদ, দোকানপাট ও অন্যান্য সম্পত্তি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এটিকে বেছে বেছে মুসলিমদের দমনের নীতি বলে আখ্যা দিলেও, কর্তৃপক্ষ একে ‘অবৈধ দখল উচ্ছেদ’ হিসেবেই দাবি করে আসছে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দি সাহিত্যের শিক্ষক অধ্যাপক অপূর্বানন্দ বলেন, এই উচ্ছেদ অভিযানের একাধিক রাজনৈতিক মাত্রা রয়েছে। প্রথমত, কট্টরপন্থি হিন্দু ভোটারদের সামনে প্রভাবশালী মুসলিমদের শায়েস্তা করার এক প্রদর্শনী তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, বিজেপি সরকারের পুরো মেয়াদের জুড়েই সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত প্রচারণা চালানো ও তৃতীয়ত, তারা কোনোভাবেই হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে সুস্থ পারস্পরিক মেলামেশা বা সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন চায় না, যা এই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রাকৃতিকভাবে ঘটে থাকে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন / ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভারতজুড়ে হামলার শিকার হচ্ছেন কাশ্মীরি ফেরিওয়ালারা
রামপুরের আন্দোলনস্থলে দাঁড়িয়ে আবদুল কলিম আনসারি নামে আরেক শিক্ষার্থী দিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের সঙ্গে তাদের এই প্রতিবাদের তুলনা করেন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করা দিল্লির সেই বিশাল ছাত্র আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন আনসারি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিল্লির কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র কয়েকশ কিলোমিটার দূরের একটি ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন উচ্ছেদের এই নোটিশ নিয়ে দিল্লির ‘ককরোচ’ আন্দোলনের নেতাদের নীরবতা তাকে সত্যি অবাক করেছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তারা শিক্ষা সংস্কারের কথা বলছেন, অথচ দিল্লির এত কাছে জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি পুরো প্রতিষ্ঠিত সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলার যে নোটিশ দেওয়া হলো, তা নিয়ে তারা একটি শব্দও বলছেন না! আজ এখানে পড়াশোনা করা হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে, অথচ আমরা জানি না আমাদের ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে যাচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা